নিজস্ব প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘাটুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের চরম অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় জুলফা আক্তার নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, শিক্ষানবিস শিক্ষার্থীদের দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করাতে গিয়ে ওই প্রসূতির জরায়ু কেটে ফেলা হয়। পরবর্তীতে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
নিহত জুলফা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার গোকর্ণঘাট গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে কালিশিমা গ্রামের সৌদি প্রবাসী জিয়াউল হকের সাথে তার বিয়ে হয়। এটি ছিল তাদের প্রথম সন্তান।
স্বজনদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সন্তান প্রসবের জন্য জুলফা আক্তারকে ঘাটুরা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে সহকারী অধ্যাপক ডা. রঞ্জিত বিশ্বাসের অধীনে সিজারিয়ান অপারেশন পরিচালিত হয়। স্বজনদের দাবি, মূল চিকিৎসক ছাড়াও সেখানে শিক্ষার্থীদের দিয়ে অপারেশন করানো হয়, যা করতে গিয়ে চিকিৎসকদের অসাবধানতায় রোগীর জরায়ু কেটে ফেলা হয়।
অপারেশনের পর থেকেই প্রসূতির শরীর থেকে অনবরত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার আকুতি জানানো হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা এতে গুরুত্ব দেননি এবং উপযুক্ত কোনো চিকিৎসা প্রদান করেননি। অবশেষে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিলে তিলে মারা যান ওই প্রসূতি।
রোগীর করুণ মৃত্যুর পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজনরা। তারা অভিযোগ করেন, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক, মেডিকেল টিম এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও গাফিলতির কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, মেডিকেল টিম এবং হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. আবু সাঈদের উপযুক্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের পরিবার।
এ বিষয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার সমাধানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলছেন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।