ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক হোসেন মিয়া হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান দুই আসামিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ (চেতক নাশক) ব্যবহার করে চালককে হত্যার পর অটোরিকশা ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (২৩ আগস্ট) দিনগত রাতে র্যাব-৯ (সিপিএসসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং র্যাব-১১ (সিপিএসসি-২, কুমিল্লা)-এর যৌথ আভিযানিক দল কুমিল্লার দেবিদ্বার ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন:
১. মো: আবুল বাশার (৪৪) — পিতা: মো: শহিদুল ইসলাম, সাং- দুয়ারিয়া, থানা- দেবিদ্বার, জেলা- কুমিল্লা।
২. নাজমুন নাহার লাভলী (২৮) — পিতা: মৃত রফিক মিয়া, সাং- সংরাইশ, থানা- কোতোয়ালি, জেলা- কুমিল্লা।
ঘটনা ও তদন্তের বিবরণ:
র্যাব জানায়, নিহত হোসেন মিয়া কসবা উপজেলার চান্দলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ২৫ মে সকালে তিনি সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। খোঁজাখুঁজির পর ২৭ মে কসবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। পরবর্তীকালে ২৮ মে বিকেলে কসবা থানার টি. আলী মোড় সংলগ্ন একটি পুকুরে তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কসবা থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং- ০৩, তারিখ: ০২/০৬/২০২৬ খ্রি.) দায়ের করেন। ঘটনাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলে র্যাব-৯ আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
অভিযানের তথ্য:
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ আগস্ট রাত ০১:০০ ঘটিকায় কুমিল্লার দেবিদ্বারের বাঙ্গরা এলাকায় এবং রাত ০১:৫০ ঘটিকায় কোতোয়ালি থানার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা এবং তাঁদের সহযোগীরা চেতনা নাশক ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ব্যবহার করে চালক হোসেন মিয়াকে হত্যা করে এবং তাঁর সাথে থাকা টাকা ও সিএনজি অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, উক্ত হত্যা মামলার তদন্ত সূত্রে এর আগে গত ৪ আগস্ট আরও ১ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।