জহির শাহ্ , ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সাইবার অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পেশাদার পুলিশিং কার্যক্রমে ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা এবং জনবান্ধব উদ্যোগের কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে জেলার মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ পর্যালোচনা সভায় কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের গর্বিত সন্তান পুলিশ কনস্টেবল লোকমান হোসেন পুরস্কৃত হওয়ায় এলাকায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। হবিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ তারেক মাহমুদ-এর সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ রাশেদুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় সকাল ১০টায় সভা শুরু হয়।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ সারোআর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ শহিদুল হক মুন্সী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং ও বাহুবল সার্কেল) প্রবাস কুমার সিংহ, সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর সার্কেল) এ.কে.এম. সালিমুল হকসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পুলিশ সুপার জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এপ্রিল-২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। দীর্ঘদিন তদন্তাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন পুলিশ সুপার।
এদিকে সাইবার অপরাধ দমনে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের ডিবি’র সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারণা কিংবা ভুলবশত পাঠানো অর্থ উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে তারা। আধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার ফরেনসিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
শুধু অর্থ উদ্ধারই নয়, হারিয়ে যাওয়া ২৩টি স্মার্টফোনও উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের চৌকস টিম। আইএমইআই ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে এক আবেগঘন পরিবেশে পুলিশ সুপার উদ্ধারকৃত টাকা ৩৭ জন ভুক্তভোগীর হাতে এবং ২২ জন প্রকৃত মালিকের কাছে মোবাইল ফোন হস্তান্তর করেন। হারানো সম্পদ ফিরে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোঃ তারেক মাহমুদ বলেন, “আমরা জনগণের সেবক। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
সভায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত এবং দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন অফিসার ও ফোর্সকে শুভেচ্ছা উপহার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের কৃতি সন্তান পুলিশ কনস্টেবল লোকমান হোসেন পুরস্কার অর্জন করায় স্থানীয়দের মধ্যে গর্ব ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, মানবিক সেবা এবং পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ এখন দেশের অন্যান্য জেলার জন্য একটি অনুসরণীয় মডেলে পরিণত হয়েছে।