মোছাব্বির হাসান সজীব,
“যে মুখে ডাকি মা, সে মুখে মাদককে বলি না” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নারুই নোয়াগাঁও গ্রামে মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সামাজিক সংগঠন ‘মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই’ এ সভার আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নারুই নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা দাহিয়াতুল মোহাম্মদ দিদার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাজেদুল হাসান। প্রধান বক্তা ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন।
বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলী আজম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. জিয়াউল হক এবং ‘মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. মাহফুজুর রহমান পুষ্প।
এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি নুরুল্লাহ আল মানসুর, সহ-সভাপতি মো. সোহরাফ হোসেন, মো. মনির হোসাইন আপন ও মো. ইসহাক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কাউছার খান ও জুনাঈদ মুহাম্মদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সানাউল্লাহ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কাজল এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক কাজী লুবনা জাহান। এ সময় ফরিদ উদ্দিন, মামুন, জজ মিয়া, আবু কালাম আজাদ, এনামুল হক, সাজ্জাদ ও শাহিন আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না; এটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় ধরনের হুমকি। তাই মাদকের বিস্তাররোধে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর না করে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, নৈতিক শিক্ষা ও ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগের প্রসার ঘটানো জরুরি। একই সঙ্গে মাদকের কুফল সম্পর্কে শিশু-কিশোর ও তরুণদের সচেতন করার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও আচরণের প্রতি দায়িত্বশীল নজর রাখতে হবে।
বক্তারা মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করা গেলে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট, খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং মাদকবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের সভা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হবে। নতুন প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে এবং সুস্থ, সুন্দর ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সংগঠন, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে মাদকবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান শক্তি।