ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনকে ডি গ্রেডে অবনমনের প্রতিবাদে ও বি গ্রেডে পুনর্বহালসহ ১১ দফা দাবিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে জেলার আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়ার কাছে “ঐক্যবদ্ধ আশুগঞ্জ” সংগঠনের নেতারা এক হাজার লোকের স্বাক্ষরসহ এই স্মারকলিপি তুলে দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, স্টেশনটিকে পুনরায় ‘বি’ গ্রেডে ফিরিয়ে সকল সুযোগ সুবিধা পুনর্বহালসহ স্টেশন মাস্টার ও আধুনিক সিগনালিং ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা, শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে মহানগর প্রভাতি, চট্টলা এক্সপ্রেস, সুবর্ণচর এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি ট্রেনের আশুগঞ্জে যাত্রাবিরতি দেয়া, স্টেশনসংলগ্ন মেঘনা নদীর উপরের সেতু দুটির দুই প্রান্তে নিরাপত্তার জন্য অতীতে পুলিশ ফাড়ির ব্যবস্থা করা, স্টেশনের দুটি প্লাটফর্মের পরিধি ছোট হওয়ার কারণে যাত্রীরা, বিশেষত বয়স্করা ট্রেনে উঠতে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই যাত্রীছাউনি দীর্ঘ করা, পর্যাপ্ত টিকেট বরাদ্ধ না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই যাত্রীচাপ মোকাবেলায় ট্রেনের টিকিট বরাদ্দ বাড়ানো, উন্নতমানের ভিআইপি বিশ্রামাগার স্থাপন, স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি ও অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি রাতের অন্ধকার নিরাপত্তার জন্য হুমকি তাই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, স্টেশনে যাত্রীদের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা, স্টেশনে যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচালয় এর ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে স্টেশনে স্থাপিত ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাগুলোর সংস্কার করার দাবি জানানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার আশুগঞ্জ রেলস্টেশনকে ডি গ্রেডে অবনমনের প্রতিবাদে ও বি-গ্রেডে পুনর্বহালের দাবিসহ ১১ দফা দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি নোয়াখালি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের মাঝে ৫ শতাধিক গোলাপ ফুল ও ১ হাজারেরও বেশী পানির বোতল বিতরণ করে নজির সৃষ্টি করেন “ঐক্যবদ্ধ আশুগঞ্জ” এর সদস্যরা। ফুল দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে সারাদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তারা।
ঐক্যবদ্ধ আশুগঞ্জ এর নেতা গোলাম হোসেন ইপতি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আমরা কোনো অশৃঙ্খল আচরণ চাই না চাই শান্তিপূর্ণ সমাধান। আমাদের এই আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন বি-গ্রেডে ছিল।
বিগত সরকারের আমলে অদৃশ্য কারণে আমাদের এই স্টেশনকে ডি-গ্রেডে অবনমন করে আমাদের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাই আমরা রেলওয়ে বিভাগের কাছে আমাদের অধিকার ফেরত চাই। আমরা যা চাচ্ছি তা নতুন কোনো চাওয়া নয়।
তিনি আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাধান না হলে আমরা পরবর্তী কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য
হব।