জহির শাহ্, বিজয়নগর প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাতাস বৃহস্পতিবার বিকেলে যেন থমকে গিয়েছিল এক অনিশ্চিত প্রতিরোধের গর্জনে, যখন প্রেসক্লাব চত্বরে জড়ো হয় শত শত ক্ষুব্ধ, বিদ্রোহী মুখ—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতাকর্মীরা, যারা গোপালগঞ্জে সংগঠনের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সংঘটিত বর্বর হামলার প্রতিবাদে শুধু নয়, রাষ্ট্রযন্ত্রের নীরবতা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষপাতিত্ব এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক রক্তমাখা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রাস্তায় নেমেছিল বুক পেতে। “হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে”—এই এক বাক্যের আল্টিমেটাম ছিল তাদের কণ্ঠে আগুন, পেশিতে প্রতিজ্ঞা; বক্তারা বলেন, গোপালগঞ্জের হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যেখানে বিরোধী কণ্ঠগুলোকে পিষে ফেলার নীলনকশা বাস্তবায়িত হচ্ছে, আর প্রশাসন তা চুপচাপ দেখছে, অথবা হয়তো পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তারা বলেন, এনসিপি যখন গরিব, নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলে, তখনই শাসকগোষ্ঠীর ঘুম ভাঙে, এবং তখনই নামিয়ে আনা হয় রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্র। সমাবেশে বক্তৃতা দেন জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা—তাদের কণ্ঠে ছিল আবেগ, ক্ষোভ আর বিদ্রোহ; তারা বলেন, “আমরা যদি আজ চুপ করে থাকি, তবে কাল এই সন্ত্রাস তোমার বাড়িতে, আমার বাড়িতে, প্রতিটি সচেতন নাগরিকের কণ্ঠে আঘাত হানবে।” তারা ঘোষণা দেন, যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হয়, তবে আগামী দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারা দেশে অবরোধ, অবস্থান, অনশন, গণসমাবেশসহ লাগাতার কর্মসূচির মাধ্যমে প্রমাণ করা হবে—এই দেশ একতরফা কারও জমিদারি নয়; এটি ১৮ কোটি মানুষের, যারা জানে কীভাবে অধিকার ছিনিয়ে নিতে হয়। প্রতিটি স্লোগান ছিল শুধু প্রতিবাদ নয়—ছিল রাষ্ট্রের গায়ে জ্বালা ধরানো প্রশ্ন: “আইন কোথায়?”, “বিচার কোথায়?”, “গণতন্ত্র কি কেবল নির্বাচনী খেলা?”, “বিরোধী কণ্ঠ মানেই কি শত্রু?”—আর এই প্রশ্নের উত্তরে একটাই প্রতিধ্বনি উঠেছিল জনতার মধ্য থেকে: “না, আমরা থামব না, আমরা পিছপা হব না, আমরা লড়ব, যতদিন না প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পায়, যতদিন না রাষ্ট্র হয় জনতার।” শান্তিপূর্ণ মিছিল হলেও এতে ছিল রাজপথ কাঁপানো দৃঢ়তা, সাহস, ও আদর্শিক শুদ্ধতার স্পষ্ট ঘোষণা—এটা কেবল একটি মিছিল নয়, এটা ছিল ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলা এক অমোঘ সত্য: “আমরা দাস নই, নাগরিক; আমরা ভিখারি নই, ভোটার; আর আমরা বন্দী হব না, যতক্ষণ সত্যের পক্ষে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারি।”