এই সিদ্ধান্ত বিজয়নগরের প্রায় ৯৬,০০০ ভোটারের হৃদয়ে আঘাত করেছে, যারা এই উপজেলার মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক। এই প্রস্তাব শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি বিজয়নগরের ঐতিহ্য, ঐক্য, আর অস্তিত্বের উপর একটি নির্মম আক্রমণ। স্থানীয়রা এটিকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা তাদের সামাজিক, প্রশাসনিক, আর সাংস্কৃতিক শিকড় ছিন্ন করতে উদ্যত।
এই ইউনিয়নগুলোর মানুষের ভাষা এক, সংস্কৃতি এক, জীবনযাত্রা এক। তাদের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক আর কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের মাধ্যমে সদরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অত্যন্ত সুবিধাজনক। কিন্তু সরাইল ও আশুগঞ্জের সঙ্গে এই ইউনিয়নগুলোর ভৌগোলিক দূরত্ব বেশি, যোগাযোগ জটিল। তিনটি ইউনিয়নকে সরাইল-আশুগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করলে স্থানীয়রা প্রশাসনিক সেবা পেতে ছুটতে হবে দূরের পথ, সময় আর টাকা খরচ করে। এটি কি সত্যিই প্রশাসনিক কার্যকারিতা বাড়াবে, নাকি জনগণের দুর্ভোগের নতুন অধ্যায় লিখবে?

এই লড়াই শুধু বিজয়নগরের নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের কণ্ঠ কি নির্বাচন কমিশন শুনবে, নাকি বিজয়নগরের হৃদয়ের উপর আরেকটি কালো ছায়া পড়বে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বিজয়নগরের ভবিষ্যৎ।