জহির শাহ্, বিজয়নগর প্রতিনিধি , ১৮ অক্টোবর ২০২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় একটি সাধারণ পুকুরের ব্যবহার নিয়ে তুচ্ছ বিরোধ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে শুরু হওয়া ছোটখাটো তর্ক রাতের অন্ধকারে দুই গ্রামের মধ্যে মুখোমুখি সংঘাতে পরিণত হয়। ছোট দেওয়ানপাড়া ও হাওলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ইট-পাটকেল ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, হাওলাপাড়া গ্রামের যুবক তাইম ও তার বন্ধু কয়েকজন ছোট দেওয়ানপাড়া গ্রামের পুকুরে গোসল করতে গেলে স্থানীয় যুবক শাকিল ও শিপন বাধা দেন। তর্ক দ্রুত হাতাহাতি ও মারধরে পরিণত হয়। আহতরা আবার বাড়িতে ফিরে গেলেও রাতের অন্ধকারে দুই গ্রাম সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন রাতের অন্ধকারে উভয় পক্ষ টর্চলাইট ব্যবহার করে হামলা চালায়। ইট-পাটকেল, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রের কারণে পুরো এলাকা চিৎকার ও আতঙ্কে পরিণত হয়। সংঘর্ষ প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে, এলাকায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও, পুলিশ জানিয়েছে সরাইলের মতো উপজেলার কম জনবল কারণে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা কঠিন হয়েছে। ইউএনও বলেন, “নতুন সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
আহতদের বেশিরভাগ সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন, গুরুতর কিছু রোগীকে জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কেউ মারা যায়নি, তবে লাঠি-সড়কির আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, পুকুরের এই তুচ্ছ বিরোধের পেছনে আগের শত্রুতা এবং গ্রামীণ রাজনীতির দ্বন্দ্ব কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শিক্ষা, স্থানীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং পুরনো শত্রুতিই এ ধরনের সংঘর্ষের মূল কারণ। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং স্থানীয়ভাবে মধ্যস্থতা কমিটি গঠন ও সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হবে।