আখাউড়ায় বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি: শান্তিপূর্ণ গণসংযোগ ও জনসচেতনতা

জহির শাহ্ | বার্তা সম্পাদক 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভায় শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) জেলা বিএনপির নেতা ও কসবা-আখাউড়া সংসদীয় আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী কবীর আহমেদ ভূঁইয়া ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির বার্তা। সকাল থেকেই তিনি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনসাধারণের সঙ্গে সংলাপ চালাতে শুরু করেন। মসজিদপাড়া, মালদারপাড়া, সড়ক বাজার, শ্রীশ্রী রাধা মাধব আখড়া এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট-বড় সকল এলাকা ঘুরে তিনি জনগণের সঙ্গে সরাসরি আলাপ করেন। মানুষজন তাদের প্রশ্ন, মতামত ও আশঙ্কা ব্যক্ত করে এবং কবীর ভূঁইয়া তা গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে তথ্যভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে উত্তর দেন।

তিনি বলেন, “৩১ দফা কেবল একটি রাজনৈতিক ইশতেহার নয়, এটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক এবং জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতায় আমরা এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। আমাদের লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করা নয়; বরং জনগণকে জানানো এবং সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।”

দিনের কর্মসূচির মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল নাসরিন নবী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন। সেখানে কবীর ভূঁইয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ করেন এবং শিক্ষাব্যবস্থা, ছাত্রকল্যাণ ও শিক্ষার মান উন্নয়নের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। শিক্ষকরা তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা, সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রচারণার সময় কবীর ভূঁইয়া প্রশাসন, পুলিশ এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখেন। স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও আইনসঙ্গত হয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীও উপস্থিত ছিলেন এবং সকলের সহযোগিতা ও শান্তি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

শতাধিক নেতা ও কর্মী, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণায় অংশ নেন। কেউও কোনও বিবাদ বা উত্তেজনা সৃষ্টি করেনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বার্তা স্পষ্টভাবে পৌঁছেছে এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা মিলিতভাবে জনসাধারণের কল্যাণ নিশ্চিত করবেন।

কবীর ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের প্রচেষ্টা হলো সংলাপ, আলোচনা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের কাছে কর্মসূচির মূল বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কোনো উসকানি, হিংসা বা বিভাজন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য নেই। আমরা চাই সকলেই আইনি ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তথ্য জানুক এবং মত প্রকাশের সুযোগ পাক।” জেলা বিএনপির অন্যান্য কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, এই প্রচারণা কেবল জনগণের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যম, কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টির উদ্দেশ্য নেই।

সংক্ষেপে, এই ৩১ দফা কর্মসূচি জনগণকে রাষ্ট্রকাঠামোর উন্নয়ন, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং জনগণের ক্ষমতায়নের গুরুত্ব বোঝানোর একটি শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, কর্মসূচি ও সংলাপের জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে সচেতন করা হয়েছে

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *