জহির শাহ্ | বার্তা সম্পাদক
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় অসময়ে তরমুধজ চাষ কৃষকের জীবনে নতুন সম্ভাবনার আলো জাগাচ্ছে। নাটঘর, শিবপুর, সাতমোড়া, নবীনগর পূর্ব ও বীরগাঁও এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পতিত জমি, পরিত্যক্ত পুকুরপাড় এবং ছায়াময় মাঠে কৃষকরা মাচা ও মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে ব্যস্ত। প্রতিটি মাটির কণায় যেন লুকিয়ে আছে সাফল্যের এক গল্প।
কৃষক ও উদ্যোক্তা রাজীব বলেন, “অসময়ে তরমুজ চাষে খরচ কম, ফলন বেশি, আর বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে লাভের সম্ভাবনা সত্যিই অনন্য।”
বীরগাঁও এলাকার কৃষক জাকির হোসেন জানান, “২০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে চাষে খরচ হয়েছে মাত্র ১৫ হাজার টাকা। তরমুজ বিক্রি করে আশা করছি ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় করতে পারব। এটি শুধু অর্থ নয়, পরিবার ও এলাকার উন্নয়নের গল্পও।”
নবীনগর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান বলেন, “অসময়ে চাষ কৃষকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। আগাম চাষে সফলতা দেখলে অন্যান্য কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, “বর্তমানে তরমুজ প্রায় সারা বছর চাষযোগ্য। স্থানীয় ভোক্তাদের আগ্রহও বেড়ে চলেছে। চাষের সঠিক সময় ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি।”
কৃষি বিভাগও প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সমন্বয় ঘটাচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় মালচিং পেপার, সার ও উন্নত বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট এবং কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন।
তথ্য অনুযায়ী, নবীনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে আগাম তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। প্রতিটি তরমুজ কেবল ফল নয়, বরং কৃষকের উদ্ভাবনী মনোভাব, শ্রম ও সংকল্পের প্রতীক।
অসময়ে তরমুজ চাষ শুধু অর্থনৈতিক লাভ নয়, এটি কৃষকের প্রজ্ঞা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সংকট মোকাবেলার সক্ষমতার প্রতীক। পতিত জমিতেই জন্ম নেওয়া এই লাল-সবুজ স্বপ্ন দেশের কৃষি খাতকে নতুনভাবে আলোড়িত করছে এবং অনুপ্রাণিত করছে নতুন প্রজন্মের কৃষককে।