জহির শাহ্ , বার্তা সম্পাদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের প্রধান শিক্ষক শেখ মো. মাহফুজুর রহমানের অবসরগ্রহণ উপলক্ষে এক অসাধারণ সম্মানজনক বিদায়ের আয়োজন করা হয়েছে। সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘গুরুজন’ শব্দে সাজানো ফুলে ঢাকা একটি গাড়িতে চড়িয়ে তাকে বিদ্যালয় থেকে বিদায় দেওয়া হয়, যা পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে আবেগের সমুদ্রে পরিণত করে।
শীতের নরম সকালে বিদ্যালয় মাঠে গড়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় দৃশ্য। পাপড়ি ছড়িয়ে, ফুলের মালায় সাজিয়ে প্রিয় শিক্ষককে বরণ করে নেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। গাড়ির দু’পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান শিক্ষার্থীরা, আর চোখের জলে বিদায় জানান সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তিন দশকেরও অধিক সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে শেখ মো. মাহফুজুর রহমান শুধু শিক্ষা দানই করেননি, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও জীবনমূল্যবোধ গড়ে তুলেছেন। তাই তার বিদায়কে কেন্দ্র করে পুরো অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য মিলনমেলা।
বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হোসেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মো. আইয়ুবুর রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম এবং অধ্যাপক মো. জাবেদ আহমদ খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক অলক কুমার চক্রবর্তী ও মো. শাহাদাত হোসেন।
বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে শেখ মো. মাহফুজুর রহমান বলেন,
“আজ বুঝতে পারছি বিদায় কতটা কষ্টের। সন্তানের মতো শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়া মোটেও সহজ নয়। ৩৪ বছরের এই দীর্ঘ যাত্রায় বিদ্যালয়টি আমার পরিবারের মতো হয়ে উঠেছে। আজ যে অপরিমেয় ভালোবাসা ও সম্মান পেলাম, তা সারাজীবন হৃদয়ে লালন করব।”
এই বিদায় শুধু একজন প্রধান শিক্ষকের অবসর নয়, বরং একজন আদর্শ গুরুর প্রতি শিক্ষার্থী ও সমাজের গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ। দেবগ্রাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন আবেগময় বিদায় হয়তো আর কখনো ভোলা যাবে না।