নিখোঁজের ১০ দিন পর পরিচয় শনাক্ত, পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর, দাফন সম্পন্ন।

নিজস্ব প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থেকে নিখোঁজ হওয়া এক অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ পরিবারের আবেদন এবং বিজয়নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তরের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিহত ব্যক্তির বড় ছেলে নুরুল হাসান সোহান-এর কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয় এবং রাতেই মরদেহ দাফন করা হয়।

নিহত ব্যক্তি মো. আবেদ আলী (৫০)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের বানিয়ামুড়া গ্রামের মৃত মো. সুরত আলীর ছেলে। তিনি গত ২১ জানুয়ারি সকালে নিখোঁজ হন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবেদ আলী বাক-প্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। নিখোঁজের পর বিজয়নগর থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এর আগে গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রাম থেকে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই দিন বিকেলে তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তি ভবঘুরে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুর আগে টানা তিন দিন তিনি মোহনপুর আনোয়ারুল উলুম মাদরাসার সামনে দিন-রাত অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। মানবিক বিবেচনায় স্থানীয়রা সেখানে তাঁর জন্য একটি মশারি টানিয়ে দেন। তবে দীর্ঘ সময় এলাকায় অবস্থান করলেও তিনি কারও সঙ্গে কথা বলেননি কিংবা নিজের পরিচয় জানাননি। পরবর্তীতে স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃত্যুর পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এদিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের লক্ষ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাঁর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে।

পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফনের প্রয়োজন হয়নি। পরে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) শবেবরাতের রাতে বাদ ইশা স্থানীয় ঈদগা মাঠে জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “একজন নিখোঁজ মানুষকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের মানবিক দায়িত্ব। যদি পরিচয় শনাক্ত না হয়, তবে বাতিঘরের মাধ্যমে দাফন করা হতো। পুলিশ প্রশাসন, পিবিআই এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় আজ নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং মরদেহ পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *