বিশেষ প্রতিবেদক |
সারা দেশে হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নারী ও শিশু নিখোঁজ এবং অপহরণের ঘটনা। প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো প্রান্ত থেকে শিশু কিংবা কিশোরী-নারী হারিয়ে যাওয়ার খবর আসছে। এতে অভিভাবকদের মাঝে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, গত ৬ মাসে সারা দেশে নারী ও শিশু নিখোঁজের পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
পুলিশের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের গত সাত মাসে দেশের বিভিন্ন থানায় প্রায় ১৬ হাজার শিশুর নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সেই হিসাবে গড়ে প্রতিদিন সারা দেশে প্রায় ৭৫ জন শিশু নিখোঁজ হচ্ছে।
অন্যদিকে, শিশু সুরক্ষায় কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘মুন অ্যালার্ট’-এর প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত ৬ মাসে সারা দেশে অন্তত ৩ হাজার ৪০০ শিশু নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু শিশু বাড়ি ফিরলেও বা পুলিশ উদ্ধার করতে পারলেও বড় একটি অংশের কোনো সন্ধান মেলেনি।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মাসিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রতিদিন নিখোঁজের খবরের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তরুণী ও নারীরা। মানবাধিকার সংগঠন ‘মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন’ (এমএসএফ)-এর তথ্যমতে, পারিবারিক কলহ, বাল্যবিয়ে কিংবা চাকরির প্রলোভনে পড়ে নিখোঁজ হওয়া ছাড়াও একটা বড় অংশ পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ছে। প্রতি মাসে গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন নারী নিখোঁজ বা অপহরণের ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, শিশুরা শারীরিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল হওয়ায় অপরাধী চক্র সহজেই তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। শিশু অপহরণের পেছনে কিশোর গ্যাং, মানবপাচারকারী চক্র, ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত চক্র এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাবকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা জানান, অনেক সময় নিখোঁজ ব্যক্তি বা শিশু নিজে থেকেই বাড়ি ফিরে এলেও পরিবার তা থানায় জানায় না। ফলে নিখোঁজের জিডিগুলো অনিষ্পন্ন রয়ে যায় এবং সঠিক পরিসংখ্যান সংরক্ষণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়।
তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিখোঁজ হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টাই উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি জাতীয় হেল্পলাইন ‘১৩২১৯’ ও ‘মুন অ্যালার্ট’-এর মতো জরুরি পদক্ষেপ কার্যকর করার মাধ্যমে শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।