জহির শাহ্, বার্তা সম্পাদক | ২২ মার্চ ২০২৫
পবিত্র ঈদের আনন্দ ম্লান করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় একই দিনে দুই দফা সংঘর্ষে রক্তাক্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পৃথক ঘটনায় নারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়জুড়ে উপজেলার ভলাকুট ও বুড়িশ্বর ইউনিয়নে সহিংসতার এই ঘটনাগুলো ঘটে, যা এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
সন্ধ্যার দিকে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষের এক ব্যক্তিকে কৌশলে দাওয়াতের কথা বলে ডেকে এনে চোর সন্দেহে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে একই পদ্ধতিতে আরেকজনকে ডেকে এনে নির্যাতন করা হলে তার স্বজনরা উদ্ধার করতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন।
এর আগে সকালে ভলাকুট ইউনিয়নের বালিখোলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঈদের নামাজ শেষে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। এতে নারীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতেও আহতদের ভিড় দেখা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে দুই এলাকাতেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—ঈদের মতো সংবেদনশীল দিনে কীভাবে এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল? দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকলেও তা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল কি না, সেটিও এখন আলোচনায় এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
ঈদের দিনে এমন সহিংসতা শুধু উৎসবের আনন্দকেই ম্লান করেনি, বরং গ্রামীণ সমাজে বিরাজমান দ্বন্দ্ব ও আধিপত্যের রাজনীতির গভীর সংকটকেও আবার সামনে এনে দিয়েছে।