ঋতুচক্রের আবর্তনে প্রকৃতিতে আবার এসেছে নতুন বছর। জীর্ণ পুরাতনকে পেছনে ফেলে নতুনের আহবানে আজ মেতে উঠেছে পুরো বাঙালি জাতি। লাল-সাদা পোশাকে সেজে, রমনার বটমূল থেকে শুরু করে গ্রাম-বাংলার মেলা পর্যন্ত—সবখানেই আজ বেজে উঠেছে বাঙালিয়ানার জয়গান। সংস্কৃতির রাজধানী আমাদের প্রিয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া তার ব্যাতিক্রম নই। পহেলা বৈশাখ কেবল একটি তারিখ পরিবর্তনের দিন নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও অস্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুঘল সম্রাট আকবরের সময় খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে যে বর্ষবরণ শুরু হয়েছিল, আজ তা পরিণত হয়েছে আমাদের প্রাণের উৎসবে। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে এটিই বাঙালির একমাত্র অসাম্প্রদায়িক উৎসব, যা আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে শেখায়। গত এক বছরের আনন্দ-বেদনা, সাফল্য-ব্যর্থতা আর পাওয়া-না পাওয়ার হিসেব চুকিয়ে আজ নতুন করে পথচলার দিন। ব্যবসায়ীদের পুরনো খাতা বন্ধ করে ‘হালখাতা’র নতুন পাতা খোলার মধ্য দিয়ে যেমন নতুন শুরুর অঙ্গীকার করা হয়, তেমনি আমাদের ব্যক্তিজীবনেও সংকীর্ণতা আর বিদ্বেষ ভুলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার শপথ নিতে হবে। ইউনেস্কোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আমাদের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আজ বিশ্বের দরবারে আমাদের সংস্কৃতির অনন্য উচ্চতাকে তুলে ধরছে। পহেলা বৈশাখের এই আনন্দ শুধু খাওয়া-দাওয়া বা ঘুরে বেড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং এর ভেতরের মূল চেতনা—সাম্য, ভ্রাতৃত্ব আর অসাম্প্রদায়িকতাকে লালন করতে হবে প্রাত্যহিক জীবনে। আমাদের প্রার্থনা হোক—নতুন এই বছরটি যেন বয়ে আনে শান্তি ও সমৃদ্ধি। হিংসা-বিদ্বেষ আর অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে আমরা যেন গড়তে পারি এক মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশ।
সকল পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীকে বাংলা নববর্ষের জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।