মোহনপুরে দুই দিন নিখোঁজের পর শিশু নিশাতের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার—অপহরণ ও হত্যার সন্দেহে যৌথ তদন্ত জোরদার।

জহির শাহ্,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর সাড়ে ছয় বছর বয়সী শিশু নিশাতের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্ভাব্য অপহরণ, অবৈধ আটক এবং হত্যাকাণ্ডের দিক বিবেচনায় নিয়ে বহুমাত্রিক তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশু নিশাত নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে নিজ বাড়ির অদূরে একটি খোলা ও পরিত্যক্ত স্থানে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং মরদেহের অবস্থানকে কেন্দ্র করে তদন্তকারীরা এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে দেখছেন না।

খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এরপর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ, সময়কাল এবং আঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনাটির গুরুতরতা বিবেচনায় জেলা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখা, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতসমূহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা, সামাজিক সম্পর্ক এবং অপরিচিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা—এই সম্ভাব্য সব দিক বিশ্লেষণ করছেন। একই সঙ্গে শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার পূর্ববর্তী সময়ের গতিবিধি, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সাক্ষ্য সংগ্রহ করে ঘটনার একটি সময়রেখা (টাইমলাইন) পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল একটি ঘটনা। আমরা অপরাধের প্রকৃতি নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক পদ্ধতিতে তদন্ত চালাচ্ছি। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত সত্য আরও পরিষ্কার হবে।”

এ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তার পেছনের উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের ধরণ উদঘাটন করাই এখন মূল লক্ষ্য।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিকে “নৃশংস ও অমানবিক” আখ্যা দিয়ে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকায় শিশু নিরাপত্তা ও সামাজিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। তবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ চলছে এবং সত্য উদঘাটনে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না।

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *