আখাউড়ায় অজ্ঞাত বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্ত, পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর।

নিজস্ব প্রতিনিধি 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে আখাউড়া রেলওয়ে থানার তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের মাধ্যমে মরদেহটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শনাক্ত হওয়া ওই বৃদ্ধের নাম আব্দুল মিয়া (৭৩)। তিনি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের চুনতি গ্রামের মুফিজ কোম্পানি পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আমির মিয়া ও মৃত আমেনা খাতুনের সন্তান।

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দক্ষিণ পাশে এক বৃদ্ধকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ডাটাবেজের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

মরহুমের ছেলে আশরাফ উদ্দিন শাকিল জানান, গত ২-৩ দিন ধরে তার বাবা চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার পীর আলী শাহ (রহ.) মাজারসংলগ্ন বারোকোয়াটার রেলওয়ে কলোনিতে অবস্থান করছিলেন। পরে তিনি পাহাড়তলী রেলস্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে আখাউড়া স্টেশনে পৌঁছে অসুস্থ বোধ করলে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, তার বাবা প্রায় ১০ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন এবং পেশাগত জীবনে একজন সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারে এক ভাই ও তিন বোন রয়েছে, যাদের মধ্যে বোনদের সবাই বিবাহিত।

বাবার মরদেহ শনাক্তকরণে সহায়তা করায় তিনি পিবিআই, আখাউড়া রেলওয়ে থানার পুলিশ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে পিবিআইয়ের ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. শফিকুল ইসলাম বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি স্বাভাবিকভাবে ট্রেন থেকে নামেন এবং স্টেশনে অবস্থানকালে স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেন। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তারা অজ্ঞাত মরদেহ দাফন ও শনাক্তে কাজ করেন। পিবিআইয়ের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত না হলে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হতো। পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশের নির্দেশনায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *