সম্পাদকীয়,
আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ডাক ‘মা’। মা কেবল একটি শব্দ নয়, মা একটি মমতা মাখানো পৃথিবী, এক বিশাল আশ্রয়স্থল। বছরের প্রতিটি দিনই মায়ের জন্য, তবুও বিশেষ এই দিনে বিশ্বব্যাপী সন্তানদের হৃদয়ে নতুন করে বেজে ওঠে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতার সুর।
একজন মা তার সন্তানের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন, তার তুলনা অন্য কিছুর সাথেই হয় না। নিজের সুখ, স্বপ্ন আর আরাম বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে আগলে রাখাই মায়ের ধর্ম। আমাদের বড় হওয়ার পেছনে মায়ের সেই বিনিদ্র রজনী আর নিরন্তর প্রার্থনার কথা আমরা অনেক সময়ই যাপিত জীবনের ব্যস্ততায় ভুলে যাই। এই বিশেষ দিনটি আমাদের সেই স্মৃতির দুয়ার খুলে দেয়।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের জীবন অনেক বেশি যান্ত্রিক হয়ে পড়েছে। একই ছাদের নিচে থেকেও হয়তো সময়ের অভাবে মায়ের সাথে কথা বলা হয়ে ওঠে না অনেকের। কিন্তু মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তির উৎকর্ষ আমাদের সুযোগ বাড়িয়ে দিলেও মায়ের সেই পরম মমতা ও সাহচর্যের কোনো বিকল্প তৈরি করতে পারেনি। আমাদের উচিত যান্ত্রিকতার দেয়াল ভেঙে মায়ের জন্য কিছুটা একান্ত সময় বরাদ্দ রাখা।
মা দিবসের সার্থকতা কেবল উপহার দেওয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি পোস্ট করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বার্ধক্যে মা যেন অবহেলার শিকার না হন, কোনো মা যেন বৃদ্ধাশ্রমের নিঃসঙ্গতায় চোখের জল না ফেলেন—সেই প্রতিজ্ঞা করার দিন আজ। প্রতিটি মা যেন তার নিজ ঘরে সম্মানের সাথে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই হোক আজকের দিনের অঙ্গীকার।
পৃথিবীর সকল মায়ের মুখে হাসি থাকুক। যারা আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন, তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি। আর যারা আমাদের মাঝে আছেন, তাদের জীবন হোক আনন্দময় ও নিরাপদ। বিশ্বের সকল মায়ের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।