শেখ জুনায়েদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে চরম ধস নেমেছে। চামড়ার এমন অস্বাভাবিক ও কম মূল্যের কারণে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষ ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বড় পশুর চামড়াও পানির দরে বিক্রি হওয়ায় অনেকে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলাজুড়ে বড় সাইজের গরুর চামড়াও মাত্র ৫০, ১০০, ১৫০, ২০০, ৩০০ এবং সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চামড়ার এমন অস্বাভাবিক কম দাম গত কয়েক বছরের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। দাম না পেয়ে অনেক গৃহস্থ ও কোরবানিদাতা দুপুরের পর পর্যন্ত চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অপেক্ষায় বসে ছিলেন।
চামড়া কিনে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। মাঠপর্যায়ে বেশি দামে চামড়া কিনে আড়তে বা মূল বাজারে এসে তারা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এক স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী বলেন,
“আমি গ্রাম থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পিস হিসেবে প্রায় ৩০০টি চামড়া কিনেছি। কিন্তু এখন বাজারে নিয়ে আসার পর আড়তদার ও বড় ব্যবসায়ীরা প্রতি পিসের দাম মাত্র ১০০ টাকা বলছেন। এভাবে চললে আমাদের পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে।”
ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ, সুবিধা পাচ্ছে এতিমখানা
চামড়ার বাজারের এই বেহাল দশা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে। তাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণে গত কয়েক বছর ধরেই চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।
কোরবানি দেওয়া কয়েকজন সাধারণ মানুষ ক্ষোভের সাথে জানান,
“গত কয়েক বছর ধরেই এই অবস্থা দেখছি। চামড়া বিক্রি করতে গেলে ১০০-১৫০ টাকার বেশি দাম বলে না। তাই লোকসান আর ঝক্কি এড়াতে আমরা চামড়া সরাসরি এতিমখানায় দান করে দিই। এবার ভেবেছিলাম পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কিন্তু এবার দাম উল্টো আরও কম।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, চামড়া শিল্পের এই বিপর্যয় ঠেকাতে এবং তৃণমূলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে সরকারি নজরদারি ও ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙা জরুরি। অন্যথায় দেশের অন্যতম বড় এই রপ্তানি খাতটি আরও বড় সংকটে পড়বে।