বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যমুনা হাসপাতালের চেয়ারম্যানের পদ হারালেন জুলফিকার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :

বিভিন্ন অপকর্ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমাড়শীল মুড়ে অবস্থিত যমুনা হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান পদে দ্বায়িত্ব থাকা সেই চেয়ারম্যানের পদটি আর নেই জুলফিকার আলীর ।
হাসপাতালের নিয়ম বহির্ভূত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে হাসপাতালের সকল মালিকগন একত্রিত হয়ে চেয়ারম্যানের পদ থেকে জুলফিকার আলীকে বাতিল করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন যমুনা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাউসার মিয়া।

জানা যায়, গত ৬ জুন শনিবার হসপিটালের অফিস কক্ষে চাঁন মিয়ার সভাপতিত্বে এক জরুরি সভার আহবান করা হয়। উক্ত সভায় জুলফিকার আলীর
বিতর্কিত কর্মকান্ডের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় উল্লেখ করা হয় জুলফিকার আলী গত ৪ মে জেলা পরিষদ প্রশাসক কর্তৃক চেয়ারম্যান মনোনিত হওয়ার পর থেকে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে ঢুকে জুর পূর্বক হাসপাতালের ব্যবহৃত মোবাইল সিম ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, বিভিন্ন মালিকদের হুমকি প্রদর্শন, হাসপাতালে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা,রোগীদের কাছ থেকে কমিশনের টাকা নিয়ে স্টাফদের হাত কেটে ফেলার হুমকি। যা হাসপাতালের সিসি ক্যামেরায় ফুটেজ গুলো রক্ষিত আছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
সর্বোপরি হাসপাতালের বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি করার কারণে হাসপাতালের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভায় উপস্থিত মালিক পক্ষের সর্ব সম্মতিক্রমে জুলফিকার আলীর চেয়ারম্যান পদ বাতিল বলে ঘোষনা করা হয় । উক্ত সভায় হাসপাতালের ২৪ জন মালিক পক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
জুলফিকার আলীর চেয়ারম্যান পদ বাতিলের বিষয়টি জেলা পরিষদের প্রশাসক, বেসরকারি হাসপাতাল মালিক সমিতির বরাবর অবগত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সাবেক হাসপাতালের রিসিপশনিস্ট তাসলিমা নামের এক নারীকে দিয়ে জুলফিকার আলী হাসপাতালের ভিতরে অপ্রীতিকরও বিশৃঙ্খলা ঘটনা ঘটায় এবং অন্যান্য মালিকদের নামে মিথ্যা ও বানুয়াট মানহানিকর সংবাদ প্রচার করে।
রিসিপশনিস্ট তাসলিমাকে গত চার মাস আগে হাসপাতালে নিয়োগ দেন জুলফিকার আলী।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, যোগদানের পর থেকেই জুলফিকারের প্রভাব খাটিয়ে তাসলিমা হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আসছিলেন।কিছু দিন আগে রিসেপশনিস্ট তাসলিমা বেগমের বিরুদ্ধে হাসপাতালের ফার্মেসির মালিক ও তার ভাগিনাকে থাপ্পড় মারার একটি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এবং তাসলিমাকে হাসপাতালের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জুলফিকারের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে হাসপাতালের অন্যান্য পরিচালকদের দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল।
যা সমাধানে সম্প্রতি শহরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গরা বসে হাসপাতালের আগের কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয়। নতুন কমিটিতে জুলফিকার আলীকে চেয়ারম্যান এবং কাউসার মিয়াকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক করা হয়। তবে আগের কমিটির সময় জুলফিকারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, হিসাব গোপন রাখা এবং সিসিটিভির নিয়ন্ত্রণ এককভাবে নিজের কাছে রাখাসহ নানা অভিযোগ ছিল বলে দাবি করেছেন পরিচালকরা।
জুলফিকার এমডি থাকাকালে হাসপাতালের প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, কিন্তু পরিচালকরা কোনো লাভ পাননি। হাসপাতালকে অস্থিতিশীল করতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি তারা। এরই কর্মকান্ডের পেক্ষিতে হাসপাতালের সকল মালিকদের সিদ্ধান্ত ক্রমে এক জরুরি সভায় তাকে হাসপাতালের চেয়ারম্যান পথ থেকে বাতিল করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *