মাদকের সঙ্গে গাদ্দারি করলে কোনো পুলিশ সদস্যকেও ছাড় নয়: ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ।

নিজস্ব প্রতিনিধি 

মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি ঘোষণা করে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম বলেছেন, “মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় নয়। আগে আমার ঘর পরিষ্কার করা হবে। যদি মাদকের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য এ ধরনের গাদ্দারি করে, তবে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নির্মূল অভিযান চলমান থাকবে।”

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মাদকের ভয়াবহতা রোধ ও সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আবদুর রউফের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম।
শেখ মো. আরিফ বিল্লাহর কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

সমাবেশে বক্তারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় বিজয়নগর থেকে শহরের প্রবেশপথ ‘সীমানা সড়ক’ মাদক পাচারের অন্যতম উৎস ও নিরাপদ জোন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মাদককে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি আখ্যা দিয়ে বক্তারা বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, তরুণ ও যুবসমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

বক্তারা মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে মাদক সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন না করার জন্য আইনজীবীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া মাদকের সঙ্গে জড়িত কেউ বিদেশে যেতে চাইলে তাদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স না দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর কলেজের সভাপতি এ বি এম মোমিনুল হক, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হিমেল খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আরজু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর জেলা সহ-সভাপতি নিয়াজুল করীম, মো. আরমান, মিজানুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমীর মোবারক হোসেন এবং এনসিপির জেলা আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন।

আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফারুকী পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *