ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নার্সদের সম্মাননা, শ্রেষ্ঠ ইনচার্জ তাহমিনা।

নিজস্ব প্রতিনিধি 

রোগীদের প্রতি দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবার স্বীকৃতি হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্সদের সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ সময় অর্থোপেডিক্স বিভাগের নার্সিং ইনচার্জ মোছা. তাহমিনা আক্তারকে শ্রেষ্ঠ সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের শহীদ ডাক্তার মিলন হলে আয়োজিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব সম্মাননা দেওয়া হয়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল তাহমিনা আক্তারের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন।

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি ডা. মকবুল হোসেন, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক মমতাজ বেগমসহ চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রোগীদের সেবা প্রদান ও কর্মক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখায় আরও কয়েকজন নার্স ও কর্মচারীকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স (ওটি) হেনা সুলতানা, শিশু ওয়ার্ডের নার্সিং ইনচার্জ তাছলিমা আক্তার, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ জুলেখা আক্তার, কার্ডিওলজি ওয়ার্ডের ইনচার্জ রোকসানা আক্তার, রুনা আক্তার ও নিপা রহমান, মেডিসিন ওয়ার্ডের ইনচার্জ মাজরিন জাহান, সার্জারি ওয়ার্ডের ইনচার্জ পূজা রায় ও শাকিল মিয়া, মিজেলস ওয়ার্ডের ইনচার্জ অঞ্জনা রায় এবং অর্থো ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স উজ্জ্বল হোসেন মুন্না।

এ ছাড়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যেও উজ্জ্বল মিয়া, সোহেল মিয়া, জাকির হোসেন ও বাচ্চু মিয়াকে পুরস্কৃত করা হয়।

ইঞ্জিঃ খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, “সরকারি হাসপাতাল জনগণের হাসপাতাল। এখানে চিকিৎসা নিতে এসে কোনো রোগী যেন অবহেলা, হয়রানি কিংবা অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগের শিকার না হন, এটি নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি, অবহেলা কিংবা রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”

পুরস্কার বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আজকের এই সম্মাননা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। যারা দিন-রাত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আশা করি, এই সম্মাননা সবাইকে আরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করবে এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আরও ভালো সেবা পাবেন।”

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সেবা তত্ত্বাবধায়ক মমতাজ বেগম বলেন, “মাঝেমধ্যে আমরাও এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে থাকি। তবে এবার হাসপাতাল থেকে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। নার্সরা ২৪ ঘণ্টায় তিনটি রোস্টারে দায়িত্ব পালন করে রোগীদের সেবা দেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে নার্সরা আরও উৎসাহিত হবেন এবং এর সুফল রোগীরাও পাবেন।”

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, “হাসপাতালে সেবার মান আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দেওয়ার পর রোগীর পরবর্তী সেবার বড় দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র স্টাফ নার্সরা। ২৪ ঘণ্টাই রোগীদের পাশে নার্সরা থাকেন। তাঁদের এই ভূমিকা বিবেচনা করেই নতুন এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সেবার মান আরও উন্নত হয়।”

তিনি বলেন, “হাসপাতাল থেকে এবারই প্রথম নার্সদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ার্ডবয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদেরও তাঁদের দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে।”
সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালে ভালো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সেবার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে সরাসরি তাঁর কাছে অভিযোগ করার জন্য রোগী ও স্বজনদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অভিযোগ বা সমস্যার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *