ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইয়াবা-ভেজাল ওষুধসহ গ্রেপ্তার ৬, পিকআপ জব্দ; কারাগারে ২৯, পরিবারের জিম্মায় ১৬ কিশোর।

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর মডেল থানা পুলিশের ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ৭৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৯ হাজার ৮৪০ পিস সন্দেহভাজন ভেজাল ইউনানী ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক ও ওষুধসংক্রান্ত ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ওষুধ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ গাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। এছাড়া বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিসহ মোট ২৯ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে মুচলেকার মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম মেড্ডা (নোয়াপাড়া) এলাকায় অভিযান চালায় সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় মজিদ মিয়ার পুকুরের পশ্চিম পাশে তাঁর ফাঁকা জায়গা থেকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ সাইদুল ইসলাম হৃদয় (৩০), জালাল উদ্দিন ওরফে চিপস বাবু (২৬) এবং সম্রাট মিয়া ওরফে দীপুকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা সবাই পশ্চিম মেড্ডা এলাকার বাসিন্দা।

একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের নন্দনপুর বিসিক রাস্তার মাথা থেকে সুতিয়ারা যাওয়ার পথে আনিছ মিয়ার বাড়ির সামনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১৪ পিস ইয়াবাসহ মো. জুয়েল (২৪) ও আন্নর আলী (৫৭) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা নন্দনপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে সুহিলপুর ইউনিয়নের সুহিলপুর আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন লোকমান মিয়ার মুদি দোকানের সামনে অভিযান চালিয়ে কদর আলী (৫৫) নামে একজনকে ১২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পৃথক তিনটি অভিযানে মোট ৭৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২৩ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা এলাকার কাউতলীতে নাহার ভিলার সামনে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ভেজাল ইউনানী ওষুধসহ মো. শাহাব উদ্দিন খান (৪৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৮ হাজার ৮৮০ পিস কফকুল (এজায) ও ৯৬০ পিস এইচপি তুলসী ওষুধ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ওষুধের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ টাকা। ওষুধ পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ গাড়িও জব্দ করা হয়।

এদিকে, পুলিশের ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলা ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ২৯ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সদর মডেল থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং সন্দেহভাজন ভেজাল ওষুধ উদ্ধারের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। ওষুধসংক্রান্ত মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে মুচলেকার মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছি।

ওসি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ বিস্তার রোধ, অবৈধ ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *