নিজস্ব প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বরে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আনিছ মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি মুখের ওপরের পাটির কয়েকটি দাঁত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী শরিফা বেগম (৪৪) বাদী হয়ে বাবুল খন্দকার (৬০), তাঁর ছেলে আকাশ খন্দকার (২২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় এজাহার দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বিজেশ্বরের মুন্সীবাড়ির মোড়ে নাছিরের ছেলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে আসছিলেন আনিছ মিয়া। এ নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে তাঁকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন আনিছ মিয়া ওই এলাকায় অবস্থানকালে বাবুল খন্দকার ও তাঁর ছেলে আকাশ খন্দকার সেখানে গিয়ে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে বাবুল পেছন থেকে তাঁর গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে আকাশ লোহার রড ও কাঠের রুল নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আকাশের লোহার রডের আঘাতে আনিছ মিয়ার মুখের ওপরের পাটির চারটি দাঁত ভেঙে যায়। এ সময় বাবুলও চোখা লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে আঘাতটি তাঁর নাকের ওপর লাগে। এতে নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরও তাঁকে মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে দাবি করা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে আনিছ মিয়ার পকেটে থাকা নগদ ১৮ হাজার টাকা ও প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা মামলা করলে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রক্তাক্ত অবস্থায় আনিছ মিয়াকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বলেন, আমরা আহত ব্যক্তির এক্স-রে রিপোর্ট দেখেছি। তাঁর তিনটি দাঁত ভাঙা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১নং আসামিকে নিয়মিত মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।