ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ভালোবাসার টানে ধর্ম পরিবর্তন করে সংসার বেঁধেছিলেন, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ তিন সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন এক স্বামী পরিত্যক্তা নারী। মাথার ওপর ছাদ হারানোর ভয়, পেটে দুমুঠো খাবারের অভাব আর ভাঙা হাত নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘোরার এমন বাস্তবতার মাঝে অবশেষে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এক বিত্তবান ব্যক্তি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কুমারশীল মোড়ের আমিন কমপ্লেক্সের পশ্চিম গলিতে অবস্থিত ‘সোঁনার বাংলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর চেয়ারম্যান ড. শাহরিয়া খাঁন ওই অসহায় মাকে নগদ ১০ হাজার টাকা দিয়ে সহায়তা করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পূর্বে ওই নারীর নাম প্রিয়া রানী দাস হলেও ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তার নাম রাখা হয় মোছাঃ জিয়াসমিন আক্তার। নাসিরনগর উপজেলার নুরপুর পাঠানিশা গ্রামের মিজানুর রহমানের সাথে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন তিনি। তাদের সংসারে জন্ম নেয় এক মেয়ে ও দুই ছেলে।
কিন্তু সুখের এই দিনগুলো বেশিদিন টেকেনি। সম্প্রতি জিয়াসমিন ও তার তিন অবোধ সন্তানকে জেলা শহরের মেড্ডা এলাকার বনানী পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় ফেলে রেখে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান স্বামী মিজানুর রহমান। এরপর থেকে সন্তানদের কোনো খোঁজখবর বা ভরণপোষণ কিছুই দিচ্ছেন না তিনি।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটির এমন লাপাত্তা হওয়ার পর চরম বিপাকে পড়েন জিয়াসমিন। বাসা ভাড়া পরিশোধ তো দূরের কথা, শিশুদের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়াও তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই দুর্ভাগ্যবশত তার হাত ভেঙে যাওয়ায় অন্যের বাসায় কাজ করার পথও বন্ধ হয়ে যায়। তিনটি অবোধ শিশুর করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন এই মা।
অবশেষে অসহায় এই জিয়াসমিনের দুর্দশার কথা জানতে পেরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন সোঁনার বাংলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান ড. শাহরিয়া। রবিবার নিজ কার্যালয়ে তাকে ডেকে নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তিনি।
নগদ সহায়তা পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জিয়াসমিন আক্তার বলেন, “আমার স্বামী আমার ও আমার তিন সন্তানের সাথে যা করেছে, তা সহ্য করার মতো না। হাত ভাঙার পর মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সাহায্য পাচ্ছিলাম না, কীভাবে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেব বুঝতে পারছিলাম না। ড. শাহরিয়ার স্যার আমাকে যে সহযোগিতা করেছেন, তা আমার এই বিপদের দিনে আল্লাহর রহমতের মতো এসেছে। আমি তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।”
মানবিক এই উদ্যোগের বিষয়ে সোঁনার বাংলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান ড. শাহরিয়া বলেন, “একজন মা যখন তার তিন অবোধ সন্তানকে নিয়ে এমন অসহায় অবস্থায় পড়েন, তখন সমাজ হিসেবে আমাদের হাত গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। জিয়াসমিন আপার ভাঙা হাত এবং সন্তানদের কষ্টের কথা শুনে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষেরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে এই পরিবারটি কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।”
ড. শাহরিয়া এর এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তবে জিয়াসমিনের এই ভাঙা সংসার ও অবোধ শিশুদের স্থায়ীভাবে টিকে থাকার জন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের আরও এগিয়ে আসার বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।