আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানি বন্ধ।

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ

ভারতের উদ্দেশে মাছ রফতানি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশের রফতানিকারকরা। ভারতীয় মুদ্রাবাজারে হঠাৎ ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মাছ রফতানি বন্ধ রাখা হয়।

বুধবার (২১ মে) সকাল থেকে মাছ রফতানি বন্ধ রাখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা বলেন, জটিলতা শেষ করে বৃহস্পতিবার থেকে আবারও স্বাভাবিকভাবে মাছ রফতানি শুরু হবে।
অন্যদিকে আখাউড়া স্থলবন্দরে তিনদিন যাবৎ সীমান্ত বাণিজ্যে এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে। ভারত সরকার ছয়টি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যার ফলে বাংলাদেশ থেকে রফতানি কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, প্লাস্টিক সামগ্রী, সুতা ও সুতার উপজাত, এবং আসবাবপত্র। তবে তৈরি পোশাক ও কাঠের তৈরি আসবাবপত্র নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকায় সীমিত পরিসরে রফতানি চালু রয়েছে।

রফতানিকারকরা বলেন, আমরা প্রতিদিন যে পরিমাণ পণ্য ভারতে পাঠাতাম, তার অন্তত এক-তৃতীয়াংশ এখন গুদামে পড়ে আছে। যদি দ্রুত নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেওয়া হয়, তবে আমাদের লোকসান ক্রমেই বাড়বে। ভারতের এই নিষেধাজ্ঞা রফতানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা দিচ্ছে। আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে মোট রফতানির প্রায় ৩০ শতাংশই নিষিদ্ধ পণ্যের আওতায় পড়ায় বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুতই সমাধান না হলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বে।

আখাউড়া সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. নেসার আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, “ভারতে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে রফতানি কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। তাই বুধবার আমরা মাছ রফতানি স্থগিত রাখি। ইতোমধ্যেই ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় রফতানি শুরু হবে।”

তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আমরা আশাবাদী। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে অন্যান্য পণ্য রফতানিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

উল্লেখ্য, পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১.৫ থেকে ২ কোটি টাকার পণ্য রফতানি হয়ে থাকে। এই নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকলে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *