নবীনগরের শহীদ তানজিলসহ পাঁচ সাহসী সন্তানকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা: ফুলেল অঞ্জলি ও মাগফিরাতের দোয়া।

জহির শাহ্ , বিজয়নগর  প্রতিনিধি:

৫ আগস্ট ২০২৫—এক অবিস্মরণীয় দিন হয়ে থাকলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরবাসীর স্মৃতিপটে, কারণ এদিন উপজেলার গর্বিত সন্তান শহীদ তানজিল মাহমুদ সুজয়সহ পাঁচজন শহীদের প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিবেদিত হলো হৃদয়ছোঁয়া শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা; সকালবেলা বিটঘর গ্রামে অবস্থিত শহীদদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান, যার নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী এবং সাথে ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন, নবীনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন জনগণ—যারা সকলে মিলেই শহীদদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে একত্রিত হন। পরে মাওলানা রফিকুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া মাহফিল, আর ইউএনও রাজীব চৌধুরী নিজে শহীদ তানজিলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং ব্যক্তিগতভাবে সান্ত্বনার হাত বাড়িয়ে দেন। শহীদ তানজিল মাহমুদ সুজয় ছিলেন এক সাহসী ছাত্রনেতা, যিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রথম সারির কণ্ঠস্বর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং মাত্র ১৯ বছর বয়সে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান, এরপর নিষ্ঠুরভাবে তাঁর মৃতদেহ একটি ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়—এই নির্মম ইতিহাস আজও কাঁদায় জাতিকে। এই কর্মসূচিতে শুধু তানজিল নয়, শ্রদ্ধা জানানো হয় শহীদ রফিকুল ইসলাম, শহীদ কামরুল মিয়া, শহীদ জাহিদুজ্জামান তানভীন ও শহীদ মো. জাহিদ হোসেন-এর সমাধিতেও, যাঁরা সবাই ছিলেন দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী অকুতোভয় যোদ্ধা। জেলা প্রশাসনের এই শ্রদ্ধাঞ্জলি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়—বরং এক অন্তরাত্মা থেকে উৎসারিত জাতিগত কৃতজ্ঞতা ও মূল্যবোধের নিদর্শন, যা আগামীর তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস ও ইতিহাস সচেতনতার দীপ্ত আলো জ্বালিয়ে যাবে।

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *