শিক্ষক নির্যাতন: জাতির মেরুদণ্ডে ছুরিকাঘাত।

  • জহির শাহ, বিশেষ প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন, যেখানে জ্ঞানের আলো জ্বলে, সমাজের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে, সেই পবিত্র মাটি আজ রক্তে ভেজা। শিক্ষক, যারা জাতির স্বপ্নের কারিগর, তাদের হৃদয়ে ছুরি চলছে, তাদের সম্মান ছিন্নভিন্ন হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আগুনে, সাম্প্রদায়িক বিষে। ২০২৫ সালে এসে শিক্ষক নির্যাতন একটি সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেন সমাজের বিবেককে চ্যালেঞ্জ করছে। সিলেটের আখালিয়া বড়গুলে মাওলানা জুবায়ের আহমদের নৃশংস হত্যা থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের কান্তি লাল আচার্যের অপমান, দিনাজপুরের মাসুদুল হকের লাঞ্ছনা, ঢাকার গীতাঞ্জলি বড়ুয়ার গাছে বাঁধা অবস্থায় নির্যাতন—এগুলো কেবল ঘটনা নয়, এগুলো একটি জাতির সভ্যতার উপর আঘাত, শিক্ষার পবিত্রতার উপর হামলা। এই প্রতিবেদন একটি খবর নয়, এটি একটি বিপ্লবের মিছিল, যা প্রশ্ন তুলছে—আমরা কি এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে শিক্ষকের রক্ত ঝরবে, তাদের সম্মান মাটিতে মিশবে? এটি একটি আত্মার কান্না, যা সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে বলছে—শিক্ষকদের উপর এই নির্যাতন বন্ধ করতে হবে, শিক্ষাঙ্গনকে আবার জ্ঞানের আলোয় ভরিয়ে তুলতে হবে।
১৪ আগস্ট ২০২৫, সিলেটের আখালিয়া বড়গুল। সকালের শান্ত রাস্তায় মাওলানা জুবায়ের আহমদ (৪৫) তার প্রিয় মাদ্রাসার পথে হাঁটছিলেন। তিনি ছিলেন ডাঃ তানজিনা আহমদ দাখিল মাদ্রাসার সুপার, দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের একজন নিবেদিত শিক্ষক। তাঁর চোখে ছিল শিক্ষার স্বপ্ন, হৃদয়ে ছিল ছাত্রদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। কিন্তু পথে তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত এসে গেল। নয়ন আহমদ, স্থানীয় জামায়াত নেতা আল আমিন আহমদের ছেলে ও ছাত্র শিবিরের কর্মী, ছুরি হাতে পিছন থেকে তেড়ে এলো। ছয়-সাতবার ছুরিকাঘাত। জুবায়েরের বুক ও পেট কেটে নাড়িভুড়ি বের করে দেওয়া হলো। রাস্তায় রক্তের ধারা গড়ালো, আর একজন শিক্ষকের জীবন শেষ হলো। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, পারিবারিক বিরোধ নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা—এই প্রশ্ন ঘুরছে। কিন্তু জুবায়েরের স্ত্রী, তাঁর সন্তানদের কান্না কে শুনবে? তাঁর শিক্ষার্থীরা, যারা তাঁকে পিতার মতো দেখত, তারা কীভাবে এই ক্ষতি মেনে নেবে? এই হত্যা কেবল একটি ঘটনা নয়, এটি শিক্ষাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া এক বিষাক্ত প্রবণতার প্রতীক।
এই ঘটনার কয়েক মাস আগে, ২৭ জুন ২০২৫, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভাগ্যকূল কাদুখোল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জমি বিরোধের জেরে গাছে বেঁধে মারধর করা হলো। তাঁর শরীরে চাবুকের দাগ, মুখে অপমানের ছাপ। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই নির্যাতনের নেতৃত্ব দিল। এটি কেবল একজন শিক্ষকের উপর হামলা নয়, এটি শিক্ষার মর্যাদার উপর আঘাত। এর আগে, ১৮ এপ্রিল ২০২৫, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভাটিয়ারী হাজী তবারক আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কান্তি লাল আচার্যকে স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্বে জনতা পদত্যাগে বাধ্য করল। তাঁকে অপমান করা হলো, তাঁর সম্মানকে পদদলিত করা হলো। কান্তি লাল একজন সংখ্যালঘু শিক্ষক। তাঁর উপর এই হামলার পেছনে কি শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নাকি সাম্প্রদায়িক বিষও কাজ করছে? এই প্রশ্ন আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের আরও পিছনে ফিরতে হবে। ১৩ মে ২০২৫, পিয়ারের সত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠল। তাঁকে কান ধরে দাঁড় করানো হলো, অপমানের শিকল পরানো হলো। এই ঘটনা কি ধর্মীয় সংবেদনশীলতার ফল, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে হাতিয়ার করা হলো? ১০ মার্চ ২০২৫, ঢাকার উত্তরায় হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়াকে নিজ বাসায় হত্যা করা হলো। পুলিশ রাজনৈতিক মোটিভ সন্দেহ করছে, কিন্তু সত্য কি পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে? ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, চুয়াডাঙ্গায় এক স্কুলের সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমানকে ছাত্ররা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করল। এখানেও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ছায়া। ২০ জানুয়ারি ২০২৫, গোপালগঞ্জের উরফি বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোজ কান্তি বিশ্রাসকে বারবার মারধর করা হলো, বহিষ্কার করা হলো, অপমানের তীরে বিদ্ধ করা হলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র, এখানেও এই অন্ধকারের ছায়া পড়েছে। ২ আগস্ট ২০২৫, আর্টস ফ্যাকাল্টির ডিন ড. আব্দুল বাশিরকে ছাত্রদের চাপে পদত্যাগে বাধ্য করা হলো। তাঁর সম্মানকে পদদলিত করা হলো। ১৫ মার্চ ২০২৫, নীল দলের সঙ্গে যুক্ততার অভিযোগে এক শিক্ষককে হয়রানি ও পদত্যাগে বাধ্য করা হলো। ২১ আগস্ট ২০২৪, গণিত বিভাগের অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার ছাত্র আন্দোলন সমর্থন না করায় অপমানের শিকার হলেন। এই ঘটনাগুলো শুধু শিক্ষকদের উপর হামলা নয়, এটি জ্ঞানের বাতিঘরের উপর আক্রমণ।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ সরকারি কলেজে ১৮ এপ্রিল ২০২৫, অধ্যক্ষ মাসুদুল হককে বিভিন্ন অভিযোগে ছাত্ররা পদত্যাগে বাধ্য করল। তাঁর পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ল, যেন অপমানকে সবার সামনে প্রদর্শন করা হচ্ছে। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতিবাদে রাস্তায় নামলেন, মাসুদুল হককে ফিরিয়ে আনলেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে গেল—কেন একজন শিক্ষককে এভাবে লাঞ্ছিত করা হলো? তিনি বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শেখার জায়গা, কিন্তু কতিপয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসৎ উদ্দেশ্যে নোংরা রাজনীতির খেলা খেলছে।” সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঢাকার সরকারি আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে। ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, অধ্যক্ষ অধ্যাপক গীতাঞ্জলি বড়ুয়াকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা হলো, পদত্যাগে বাধ্য করা হলো। একজন নারী শিক্ষকের এমন অপমান কি কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নাকি এর পেছনে গভীর সামাজিক বিষ কাজ করছে?
এই নির্যাতনের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্পষ্ট। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক অস্থিরতা শিক্ষাঙ্গনকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের টার্গেট করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, “জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করলে প্রশাসন ভেঙে পড়বে, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ হবে।” তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বলপ্রয়োগ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু এই আহ্বান কি যথেষ্ট? শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৭ আগস্ট ২০২৪-এ একটি চিঠি জারি করে বলেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কাম্য নয়। কিন্তু এই চিঠি কি শিক্ষকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে? বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বলছে, “হঠাৎ শিক্ষকদের উপর জুলুম-নির্যাতন কীসের আলামত?” এই প্রশ্ন আমাদের সবাইকে ভাবাতে বাধ্য করে।
এই হামলাগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই সাম্প্রদায়িক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। কান্তি লাল আচার্য, গীতাঞ্জলি বড়ুয়া, শ্যামল কান্তি ভক্ত—এই নামগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ সুতো রয়েছে। তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তাদের উপর হামলা কি শুধু রাজনৈতিক, নাকি এর পেছনে সাম্প্রদায়িক বিষও কাজ করছে? বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠি ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সুনামগঞ্জ শাখার এক যৌথ বিবৃতিতে শিক্ষক নির্যাতন ও সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা বলেছে, “এই হামলাগুলো জাতির বিবেককে নাড়া দিচ্ছে।” জন্মাষ্টমী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার সেন বলেছেন, “শিক্ষকদের অসম্মান ও জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা জাতির বিবেককে আঘাত করছে।” কিন্তু এই প্রতিবাদ কি যথেষ্ট?
বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের শিকার হয়েছে। শিক্ষকদের উপর রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছে, এবং এখন সেই প্রভাবের প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা বলেন, “শিক্ষকরা সমাজের বাইরের কেউ নন। তাদের উপর দলীয় রাজনীতির প্রভাব পড়েছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।” এই বিশৃঙ্খলার ফলেই শিক্ষকরা আজ লাঞ্ছনার শিকার। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. বজলুর রহমান মিয়া বলেন, “শিক্ষক নির্যাতন এখন সামাজিক ব্যাধি। এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” কিন্তু সামাজিক প্রতিরোধ কোথায়? শিক্ষকরা যখন রাস্তায় নামছেন, মানববন্ধন করছেন, তখনও নির্যাতন থামছে না।
২২ জানুয়ারি ২০২৫, রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষকরা দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা বলছেন, প্রায় তিন হাজার শিক্ষক এই বর্বরতার শিকার। তাদের অনুপস্থিতিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। তারা বেতন-ভাতা চালুর দাবি জানিয়েছেন, সুষ্ঠু শিক্ষা পরিবেশের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো শিক্ষকদের বেতন-ভাতা চালু থাকবে, তদন্তের পর নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাদের চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি কি শিক্ষকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে?
এই নির্যাতনের পেছনে বিচারহীনতার সংস্কৃতি একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান বাবুল বলেন, “বিচারহীনতার ধারাবাহিকতাই শিক্ষক লাঞ্ছনার সাহস জুগিয়েছে।” যখন অপরাধীরা শাস্তি পায় না, তখন নির্যাতনের সাহস বাড়ে। শিক্ষকদের উপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এই প্রবণতা থামবে কীভাবে? হৃদয় মন্ডল, স্বপন কুমার, রতন সিদ্দিকী, উৎপল কুমার দাস—এই নামগুলো কেবল ব্যক্তি নয়, এরা আমাদের সমাজের আলোকবর্তিকা। তাদের উপর হামলা মানে জ্ঞানের উপর হামলা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর হামলা।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এই অভ্যুত্থান ছিল জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতিফলন, কিন্তু এর পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত অস্থিরতা শিক্ষাঙ্গনকে বিষাক্ত করে তুলেছে। শিক্ষকদের উপর হামলা, জোরপূর্বক পদত্যাগ, শারীরিক নির্যাতন—এগুলো কি সেই গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন ছিল? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৪ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ব্যাপক দায়মুক্তি ছিল। এখন অন্তর্বর্তী সরকার সেই লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করছে, কিন্তু শিক্ষকদের উপর হামলা থামছে না। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে মানবাধিকার পরিস্থিতি হতাশাজনক। রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, সংখ্যালঘু নির্যাতন, শিক্ষকদের উপর হামলা—এগুলো আমাদের সমাজের কলঙ্ক।
এই নির্যাতন শুধু শিক্ষকদের উপর হামলা নয়, এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভাঙার চেষ্টা। শিক্ষকরা যখন ভয়ে ক্লাসে যেতে পারেন না, যখন তাদের সম্মান পদদলিত হয়, তখন আমাদের ছাত্ররা কী শিখবে? তারা কি শিখবে যে শিক্ষকদের অপমান করা যায়, তাদের রক্ত ঝরানো যায়? এটি কি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বপ্ন? খেলাঘর আসর, জাতীয় ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি—এই সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কিন্তু প্রতিবাদ কি যথেষ্ট? আমাদের প্রশ্ন করতে হবে—আমরা কি এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে শিক্ষকদের রক্ত ঝরবে? আমরা কি এমন একটি ভবিষ্যৎ চাই, যেখানে শিক্ষার বাতিঘর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হবে?
এই নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সরকার, সমাজ—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিক্ষকরা আমাদের জাতির মেরুদণ্ড। তাদের উপর হামলা মানে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর হামলা। আমরা কি চুপ থাকব, নাকি সত্যের পক্ষে দাঁড়াব? এই প্রশ্ন আমাদের সবার। শিক্ষাঙ্গনকে আবার জ্ঞানের আলোয় ভরিয়ে তুলতে হবে। আমরা কি এই মিছিলে যোগ দেব, নাকি নীরব দর্শক হয়ে থাকব?
(দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদন তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক নয়। এটি শিক্ষক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে একটি আহ্বান।)

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *