জহির শাহ্ | বার্তা সম্পাদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় এক বন্ধুত্বপূর্ণ ফুটবল খেলাকে ঘিরে দুই গ্রামের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে সরাইল উপজেলার দক্ষিণ আড়িফাইল ও ফকিরহাটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ফকিরহাটি গ্রামের মাঠে স্থানীয় কিশোররা ফুটবল খেলছিল। খেলার সময় ফকিরহাটির এক কিশোর দক্ষিণ আড়িফাইল গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে মামুনকে মারধর করে। এ নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা, টেঁটা-বল্লম ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধানক্ষেতে মুখোমুখি হয় এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম বলেন, “ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুনরায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
স্থানীয়দের মতে, দুই গ্রামের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যা ফুটবল খেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। তারা প্রশাসনের কাছে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।