জহির শাহ্ | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষাঙ্গনে আজ এক অনন্য উচ্ছ্বাসের ঢেউ। বিজয়নগরের দৌলতবাড়ি চিশতিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝলসে উঠেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা–২০২৫-এর উপজেলা পর্বে, যেখানে তারা অর্জন করেছে প্রথম স্থান। এককথায়—এ এক সাফল্যের দিগন্তে সূর্যোদয়!
১০ নভেম্বর উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাটি যেন রূপ নেয় এক আধ্যাত্মিক উৎসবে। ক্বিরাত, হামদ-নাত, আজান, ইসলামী জ্ঞান, উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনা—প্রতিটি পর্বে দৌলতবাড়ির শিক্ষার্থীরা দেখিয়েছে এমন মুন্সিয়ানা, যা শুধু প্রতিযোগিতার নয়, বরং শিল্প ও আত্মার সংলাপ।
এই গৌরবময় অর্জনের আনন্দে ১১ নভেম্বর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। সভাপতি হিসেবে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন প্রজ্ঞাবান শিক্ষানুরাগী, প্রতিষ্ঠানের সুপারিন্টেন্ডেন্ট মুফতি সুফি আমির হোসাইন, যিনি তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটিকে উন্নতির মাইলফলকে নিয়ে গেছেন।
অতিথিদের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও প্রতিষ্ঠানের প্রিয় শিক্ষক জহির শাহ্। তাঁর উপস্থিতিতে যেন পুরো আয়োজন নতুন এক মর্যাদায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সংবর্ধনায় তিনি বলেন,“এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ইসলামী মূল্যবোধের রক্ষক ও প্রচারক। তাদের প্রতিভা আমাদের সমাজে আলোর দিশা দেখাবে।”
তাঁর কণ্ঠে ছিল একাধারে সাংবাদিকের দূরদৃষ্টি ও শিক্ষকের মমতাময় আত্মনিবেদন। বক্তৃতার প্রতিটি বাক্যে যেন ফুটে উঠছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শুভাকাঙ্ক্ষার অগ্নিশিখা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা একে একে পরিবেশন করে ক্বিরাত, হামদ, নাত, কবিতা, উপস্থিত বক্তৃতা ও ইসলামী রচনা। প্রতিটি পরিবেশনায় তাদের নিষ্ঠা, আত্মবিশ্বাস ও শিল্পপ্রতিভা দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। মাদ্রাসার আঙিনায় করতালির ধ্বনি যেন জানান দেয়—প্রতিভা কখনো গোপন থাকে না।
অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিরা একবাক্যে বলেন—এই অর্জন কেবল একটি মাদ্রাসার নয়, এটি গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষাক্ষেত্রের এক ঐতিহাসিক সাফল্য।
দৌলতবাড়ি চিশতিয়া দাখিল মাদ্রাসার এই জয় যেন নতুন প্রজন্মকে জানিয়ে দেয়— “ধর্ম, জ্ঞান ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনেই নিহিত প্রকৃত শিক্ষা।”
আর এই উজ্জ্বল অর্জনের নেপথ্যে যিনি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন অবিরত, তিনি শিক্ষক ও সাংবাদিক জহির শাহ্—যাঁর মমতা, প্রেরণা ও নিরবচ্ছিন্ন দিকনির্দেশনা আজ দৌলতবাড়ির প্রতিটি ছাত্রের চোখে আলোর প্রতিফলন হয়ে ঝলমল করছে।
শেষমেশ বলা যায়,
দৌলতবাড়ির এই সাফল্য শুধু একটি প্রতিযোগিতা জেতার গল্প নয়—এটি এক আলোকিত দিগন্তের সূচনা,
যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী শেখে, জ্ঞানই ইবাদত, আর ইবাদতই শ্রেষ্ঠ গৌরব।