ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পৈরতলা এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের পিলারে একটি লোকাল বাসের ধাক্কা লাগার ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর, এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র এবং আনসার কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে ফায়ারিং প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রায় ৩৫ জন আনসার সদস্য দিগন্ত পরিবহনের একটি লোকাল বাসে করে সদর উপজেলার সুহিলপুর ক্যাম্পের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফ্লাইওভারের একটি পিলারে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় বাসের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং আনসার সদস্যরা আঘাতপ্রাপ্ত হন। আহতদের মধ্যে হৃদয় নামে একজন সদস্যের বুক এবং শরীরে গভীর আঘাত লেগেছে, যা তার অবস্থাকে আশঙ্কাজনক করে তুলেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা এবং পথচারীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তারা আহতদের বাস থেকে বের করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাজমুল হক জানিয়েছেন, “আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর, কিন্তু বাকিরা স্থিতিশীল। আমরা তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছি।” হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের হাড় ভাঙা এবং অভ্যন্তরীণ আঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা আরও পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন রশীদ বলেন, “আমাদের সদস্যরা প্রশিক্ষণ শেষ করে ফিরছিলেন। এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। আমরা দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছি এবং আহতদের সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, বাসচালককে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বাসের গতিবেগ বেশি থাকা, চালকের অসতর্কতা বা যান্ত্রিক ত্রুটি এই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
এই ঘটনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার একটি চলমান সমস্যাকে তুলে ধরেছে। জেলায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার এবং মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে, যা যানবাহনের অতিরিক্ত গতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবের সাথে যুক্ত। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের কারণে এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে, কিন্তু এখনও ঝুঁকি রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশের দল উপস্থিত হয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
আনসার বাহিনী বাংলাদেশের একটি সহায়ক নিরাপত্তা বাহিনী, যারা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সাথে কাজ করে। এই ঘটনায় আহত সদস্যদের পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদানের জন্য অধিদপ্তর থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এই দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্মাণকাজ চলাকালীন সড়কে আরও সাইনবোর্ড, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের প্রশিক্ষণের দরকার রয়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে।