ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক পরিসরে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন স্থানে এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
সকালে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। সার্বিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক (উপসচিব) শরিফুল ইসলাম।
জানা গেছে, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থেকে জনজীবন সুরক্ষিত রাখতে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো এবং লার্ভা ধ্বংসের এ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিযানের পাশাপাশি ডেঙ্গু মোকাবিলায় দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—
পরিচ্ছন্নতা: বসতবাড়ির আঙিনা, ছাদ ও চারপাশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
পানি জমতে না দেওয়া: ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা এবং এসি বা ফ্রিজের নিচে যেন কোনোভাবেই ৩ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
মশারির ব্যবহার: ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতার মাধ্যমেই একটি ডেঙ্গুমুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তোলা সম্ভব বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।