শেখ সাদী সুমন
আখাউড়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন এখন চিহ্নিত অপরাধী, মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল (রবিবার) স্টেশনে ঘটে যাওয়া এক পৈশাচিক ঘটনা আবারো প্রমাণ করল যে, এখানে সাধারণ মানুষের জানমালের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। ২০ বছরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও একাধিক মামলার আসামি সফরের ছুরিকাঘাতে এক নারী রক্তাক্ত হয়েছেন। ওই নারীর গালে ১৮টি সেলাই দিতে হয়েছে।
ঘটনার নৃশংস বিবরণ:
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ২০ বছর বয়সী দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী ও মাদকাসক্ত সফর, যে ইতিপূর্বেও একাধিক চুরি ও ছিনতাই মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত; সে স্টেশনের এক ভাসমান নারীকে কুপ্রস্তাব দেয়। নারীটি ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সফর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তার সাথে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ওই নারীর গালে নৃশংসভাবে আঘাত (ফুস) করে। এতে নারীর গাল ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার গালে ১৮টি সেলাই দেন।
পেশাদার অপরাধীদের অভয়ারণ্য:
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, সফর ও তার গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এরা মূলত ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের সাথে সরাসরি জড়িত। মাদক সেবন এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে স্টেশনে দাপিয়ে বেড়ানো এদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। একজন চিহ্নিত অপরাধী যার নামে একাধিক মামলা রয়েছে, সে কীভাবে স্টেশনে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়ায়—তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদাসীনতা:
রেলওয়ে পুলিশ (GRP) এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (RNB) কঠোর নজরদারি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তার চিত্র ভিন্ন। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও ওভারব্রিজে ভাসমান মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের এই দাপট সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় স্টেশনের প্রতিটি কোণে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কয়েকগুণ বেড়েছে।
অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি:
সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে সন্ত্রাসী সফরকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া স্টেশনে ভাসমান মাদকসেবী ও ছিনতাইকারী চক্রের মূলোৎপাটনে রেলওয়ে পুলিশ ও আরএনবি-র বিশেষ ঝটিকা অভিযান এখন সময়ের দাবি। নতুবা ভবিষ্যতে সাধারণ যাত্রীদের সাথে আরও বড় ধরনের প্রাণঘাতী বা রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনার দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।