সম্পাদকীয়
সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়,এটি সমাজের দর্পণ এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই দর্পণে সমাজ নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, ইদানীং আমাদের এই মহান পেশার অভ্যন্তরে এক নেতিবাচক সংস্কৃতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমরা ভুলে যাচ্ছি যে, সাংবাদিকরাও রক্ত-মাংসের মানুষ। তাঁদেরও ব্যক্তিগত জীবন আছে, ভুলভ্রান্তি আছে, আছে সীমাবদ্ধতা।
মানুষ হিসেবে আমাদের একে অপরের সঙ্গে মতাদর্শের অমিল থাকতে পারে, ব্যক্তিগত লেনদেন বা পাওনা-দেনা থাকতে পারে। কিন্তু সেই ব্যক্তিগত রেষারেষি বা হিংসা-বিদ্বেষকে যখন আমরা খবরের পাতায় তুলে আনি, তখন তা আর সংবাদ থাকে না;বরং তা হয়ে ওঠে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হাতিয়ার। এক সাংবাদিক যখন অন্য সাংবাদিকের ব্যক্তিগত দুর্বলতাকে পুঁজি করে তাঁকে ছোট করার নেশায় মেতে ওঠেন, তখন তিনি শুধু একজন ব্যক্তিকে আঘাত করেন না, বরং পুরো সাংবাদিক সমাজকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে— ‘কাকে কাকের মাংস খায় না’। পশুপাখিও নিজের জাত চেনে,একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়ায়। অথচ আমরা যারা সমাজকে সচেতন করার দায়িত্ব নিয়েছি, তারা অনেক সময় একে অপরের সম্মানহানি করে নিজেকে বড় প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টায় লিপ্ত হই। মনে রাখা জরুরি, অন্যকে ছোট করে কখনো নিজে বড় হওয়া যায় না। বরং এতে সাধারণ মানুষের কাছে সামগ্রিকভাবে সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকতা একটি মহান ও পবিত্র পেশা। এই পেশার মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। নিজেদের মধ্যে মতভেদ থাকবেই,কিন্তু তা নিরসনের জায়গা সংবাদমাধ্যম নয়। ব্যক্তিগত হিংসা-বিদ্বেষকে পেশার সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা সাংবাদিকতার নীতিবিরুদ্ধ কাজ।
আসুন, আমরা নিজের পেশার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই। একে অপরের ভুল ধরিয়ে দেব পেশাদারিত্বের সঙ্গে, ব্যক্তিগত কুৎসা রটিয়ে নয়। নিজের জাত বা পেশার লোকের প্রতি টান, মহব্বত এবং পারস্পরিক ইজ্জত ধরে রাখা আজ সময়ের দাবি। আসুন, আমরা কাদার ছোঁড়াছুড়ি বন্ধ করে সাংবাদিকতার প্রকৃত আদর্শে উজ্জীবিত হই এবং এই মহান পেশার সম্মানকে হিমালয়সম উচ্চতায় নিয়ে যাই।
ব্যক্তিগত শত্রুতা যেন আমাদের কলমকে কলঙ্কিত না করে—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
মোঃ ইসমাইল
সম্পাদক,Brahmanbaria সমাচার