নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি মহসিন মিয়াকে (৩৫) আবারো গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে উপজেলার চর লালপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে বারবার গ্রেফতার হলেও দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসায় মহসিনের মাদক কারবার থামানো যাচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল আশুগঞ্জ থানাধীন চর লালপুর (কান্দাপাড়া) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে মাদক কারবারি মহসিনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তার হেফাজত থেকে ৬৫ বোতল নিষিদ্ধ স্কফ (Eskuf) সিরাপ, ২৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫ হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকা বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মহসিন মিয়া আশুগঞ্জ উপজেলার চর লালপুর (কান্দাপাড়া) এলাকার মৃত উবায়দুল হকের ছেলে। ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মহসিন তার অপরাধ স্বীকার করেছে।
ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, মহসিন একজন পেশাদার মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। বারবার পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে সে পুনরায় একই কারবারে লিপ্ত হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, মহসিনের পুনরায় গ্রেফতারের খবরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক কারবার যেন মহসিনের কাছে একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামিন পাওয়া তার কাছে ‘ওয়ান টু’ এর ব্যাপার।
এলাকাবাসীর মতে, শুধুমাত্র সাধারণ গ্রেফতারে মহসিনকে থামানো সম্ভব নয়। এর ফলে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। মহসিনের বারবার জামিন পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও বইছে সমালোচনার ঝড়। অনেক নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, এমনকি অনেকে ‘ক্রস ফায়ারের’ মতো চরম ব্যবস্থার দাবিও তুলেছেন। জনমতের মূল দাবি—আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যেন এমন ব্যবস্থা নেয় যাতে এই কারবারি আর মাদক ব্যবসায় ফিরে আসতে না পারে।