শেখ জুনায়েদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ যখন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটছেন, ঠিক তখনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গণপরিবহন খাতে নেমে এসেছে বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য। জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামীণ রুটে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ইজিবাইক (টমটম) চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঈদের এই মৌসুমে যাতায়াত করতে গিয়ে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভের শিকার হচ্ছেন।
উৎসবের সুযোগে ‘পকেট কাটা’র মহোৎসব,
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কাউতলী, বিশ্বরোড মোড়, কুমারশীল মোড় এবং অফিসিয়াল চত্বর থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সিএনজি ও ইজিবাইক চালকরা এই সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। স্বাভাবিক সময়ে যে দূরত্বের ভাড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা, ঈদের এই সময়ে তা বাড়িয়ে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। দূরপাল্লার বা আঞ্চলিক রুটে (যেমন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সরাইল, আশুগঞ্জ কিংবা কসবা-নবীনগর অভিমুখী রুট) ভাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণেরও বেশি নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পরিবার নিয়ে একটু আত্মীয়ের বাসায় যাব, কিন্তু স্ট্যান্ডে আসলেই চালকরা গলাকাটা দাম চাচ্ছে। সিএনজি চালকরা সাফ জানিয়ে দিচ্ছে—গেলে এই ভাড়ায় যান, না হলে অন্য ব্যবস্থা দেখেন। উৎসবের দিনে আমরা এক প্রকার জিম্মি।”
চালকদের খোঁড়া যুক্তি
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে কয়েকজন সিএনজি ও ইজিবাইক চালকের সাথে কথা বললে তারা বিভিন্ন অজুহাত দাঁড় করান। তাদের দাবি—ঈদের সময় রাস্তায় জ্যাম বেশি থাকে, তাছাড়া ঈদের দিনগুলোয় তারা পরিবার ফেলে গাড়ি চালাচ্ছেন, তাই কিছুটা ‘বকশিস’ বা বাড়তি ভাড়া নেওয়া অন্যায় কিছু নয়। তবে যাত্রীদের পাল্টা প্রশ্ন—শতকরা ৫০ থেকে ১০০ ভাগ বাড়তি ভাড়া কীভাবে ‘বকশিস’ হতে পারে?
নজরদারির দাবি সাধারণ মানুষের
প্রতি বছরই ঈদের সময় এলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবহন খাতে এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাধারণ নাগরিক ও সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও স্ট্যান্ডগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা না করায় চালকরা প্রতিবারই পার পেয়ে যাচ্ছে।
পবিত্র ঈদের এই আনন্দময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং এই বাড়তি ভাড়া আদায়ের সিন্ডিকেট ভাঙতে অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের জনগণ।