নিজস্ব প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সাজানো খাবারের থালায় (খদর) খাসির মাংস না থাকায় বিয়ে না করে বর চলে যাওয়ার ঘটনার পর এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন বর স্বয়ং। জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ মিয়ার দাবি, খাসির মাংসের জন্য নয়; বরং কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত অ্যামাউন্টের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করায় এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় তিনি বিয়ে থেকে সরে এসেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
ফেসবুক পোস্টে জুনায়েদ মিয়া উল্লেখ করেন, তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
বিয়ের আসরে খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ চুক্তি বরখেলাপ করে পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি টাকা দাবি করে।
কাবিনের টাকা বাড়াতে অস্বীকৃতি জানালে কথা কাটাকাটি ও তর্কাতর্কির একপর্যায়ে কনেপক্ষ তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেয় এবং কনের জন্য নেওয়া লাগেজ ফেরত পাঠায়। কনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে রাতে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দিলে তা প্রত্যাখ্যান করায় তাকে জবাই করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
তার সম্মানহানি করতে টাকা দিয়ে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ ভাড়া করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটে। কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জুনায়েদ মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় শফিক মিয়ার মেয়ের বিয়ে নির্ধারিত ছিল।
কনেপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়: বর পৌঁছালে ফুল দিয়ে বরণ করার সময় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিরূপ মন্তব্য করেন। খাবার টেবিলে বরের জন্য সাজানো বিশেষ খাবারের থালায় (খদর) খাসির মাংস না দেখে বর আপত্তি তোলেন এবং খাসি ছাড়া বিয়ে করবেন না বলে অনড় থাকেন। কনের বাবা শফিক মিয়া জানান, খাসির চাহিদার কথা আগে জানানো হয়নি। শত বোঝানোর পরও বর সিদ্ধান্তে অনড় থেকে কনের বাড়ি ত্যাগ করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, খাসির মাংসকে কেন্দ্র করে বরকে অনেক বোঝানো হলেও তিনি রাজি হননি।
বর জুনায়েদ মিয়ার আনীত নতুন এসব অভিযোগের বিষয়ে কনেপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।