নিজস্ব প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নগদ টাকা, প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, আইপিএস ও কাপড়চোপার মালামালসহ প্রায় ৩৩ লাখ ১৫ হাজার টাকার সম্পদ চুরি হয়েছে বলে থানায় এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোছাঃ মাহমুদা খানম (৩৭)।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬) রাত আনুমানিক ১০টা থেকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় পশ্চিম মেড্ডা পীরবাড়ি এলাকার মলাই মিয়ার পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাহমুদা খানমের স্বামী প্রবাসী। তিনি সন্তানদের নিয়ে ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। ঘটনার দিন জরুরি প্রয়োজনে তিনি স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় যান। এই সুযোগে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা বাসার মূল দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চোরেরা রুমের আলমারিতে রাখা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছ প্রায় ৩ ভরি ওজনের দুই জোড়া চুড়ি, ৫ ভরি ওজনের তিনটি নেকলেস, ৩ ভরি ওজনের সাত জোড়া কানের দুল, দেড় ভরি ওজনের তিনটি ব্রেসলেট, এক ভরি ওজনের পাঁচটি আংটি, ৮ আনা ওজনের দুটি টিকলি এবং এক ভরি ওজনের তিনটি গলার চেইন। এছাড়া নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা ও ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইপিএস চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী, চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মোট মূল্য ৩৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
এদিকে, ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বাসার মালিক ফ্ল্যাটের মূল দরজা খোলা দেখতে পান। পরে তিনি ফোনে বিষয়টি মাহমুদা খানমকে জানান। খবর পেয়ে তার ছোট ভাই পাবেলসহ পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় গিয়ে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে মাহমুদা খানম স্ব-পরিবারে বাসায় ফিরে বিষয়টি দেখে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় গিয়ে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর ধারণা, রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা সু-কৌশলে বাসায় প্রবেশ করে চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহীদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে চোরকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, চুরি যাওয়া মালামাল দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।