নিজস্ব প্রতিনিধি
‘মন পবনের নাও ভাসাইলাম বন্ধু তোমার নদীতে, নাওয়ের মাঝি বড়ই পাজি, বৈঠা চালায় গোপনে’—কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই গানকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এর সঙ্গে যুক্ত শিল্পী-স্রষ্টা মাহমুদুর রহমান। এবার তিনি যুক্ত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর রাজনীতিতে।
সম্প্রতি ঘোষিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন মাহমুদুর রহমান। এর আগে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গান লেখা ও সুরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ‘মন পবনের নাও’ গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে গানটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
যেভাবে ভাইরাল হয় ‘মন পবনের নাও’
‘মন পবনের নাও’ গানটির মূল আকর্ষণ এর সহজ-সরল কথামালা, নদী-নৌকা ও মাঝির চিরচেনা উপমা এবং লোকজ আবহ। প্রেম, আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনকে নদী ও নৌকার রূপকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে গানটিতে। বিশেষ করে ‘নাওয়ের মাঝি বড়ই পাজি, বৈঠা চালায় গোপনে’—এই লাইনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটির ছোট ছোট অংশ ব্যবহার করে অসংখ্য ভিডিও তৈরি হতে থাকে। এর ফলে গানটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দ্রুত পরিচিতি পায় এবং পরবর্তী সময়ে ইউটিউবেও এর বিভিন্ন পরিবেশনা ও সংস্করণ ছড়িয়ে পড়ে। একটি ইউটিউব আপলোডের বর্ণনাতেও গানটির মূল কয়েকটি পংক্তি ও লোকজ আবহের উল্লেখ পাওয়া যায়।
গানটির জনপ্রিয়তার আরেকটি দিক হলো—এটি শুধু নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির শ্রোতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। লোকজ সুর ও সহজ ভাষার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন বয়সী ব্যবহারকারীর মধ্যেও গানটি পরিচিতি পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে গানটির একাধিক পরিবেশনাও প্রকাশিত হয়েছে।
‘গান থেকে রাজনীতির মাঠে’
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়ার পর এবার মাহমুদুর রহমানের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সদ্য ঘোষিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হলো।
দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময়ে মাহমুদুর রহমান অনলাইনে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় সরব ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের সময়ও তিনি ঢাকার রাজপথে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ব্যক্তিজীবনে মাহমুদুর রহমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পারচেজ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি গান লেখা ও সুরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাঁকে ভিন্ন একটি পরিচিতিও দিয়েছে।
‘পরিবর্তনের জন্য রাজনীতিতে আসতে হবে’
রাজনীতিতে যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান বলেন, শুধু রাজনীতির বাইরে থেকে দেশের পরিবর্তনের প্রত্যাশা করলে পরিবর্তন আসবে না। পরিবর্তনের জন্য রাজনীতির ভেতরে এসে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, “আসলে রাজনীতি থেকে দূরে থেকে দেশের পরিবর্তন হবে ভাবা বোকামি। আমাদের রাজনীতিতে এসে দেশটাকে পরিবর্তন করতে হবে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়তেই রাজনীতিতে এসেছি।”
মাহমুদুর রহমানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি তাঁর সাংস্কৃতিক পরিচয়ও এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একদিকে পেশাগত জীবন, অন্যদিকে গান লেখা ও সুরের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং এখন রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এই তিনটি পরিচয়কে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তাঁকে নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।