সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া নজরুলের সঙ্গে সুইটির বিয়ে ও হানিমুনের গল্পটি গুজব।

নিজস্ব প্রতিনিধি 

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে তারা স্বামী-স্ত্রী নন বলে জানিয়েছেন নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির। সুইটি আক্তারকে তাঁরা চেনেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে আব্দুল বাছির বলেন, “ছেলেকে কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। সে বিয়ে করল কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী নয়, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি, তারা একই জায়গায় কাজ করত। তাদের মরদেহ দেশে আসছে—এ তথ্যও ঠিক নয়।”

নজরুল ইসলাম (২৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে ছিলেন নজরুল। তবে কী কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করেছেন তাঁর বাবা।

আব্দুল বাছির জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর মাত্র ছয় মাস কাজ করতে পেরেছিলেন নজরুল। এরপর টানা তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন। গত বুধবার গণমাধ্যমের খবর থেকে ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা।

তিনি আরও বলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলেন। এর মধ্যে নজরুল দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন। বর্তমানে ঋণ পরিশোধের জন্য ঋণদাতাদের চাপের মুখেও রয়েছেন তিনি। ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন আব্দুল বাছির। একই সঙ্গে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়ে থাকলে এর বিচার দাবি করেন।

এদিকে, নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোকে ভেঙে পড়ে পরিবারটি। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ খবর শুনে তাঁর ফুফু আবেদা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। গ্রামবাসী তাঁদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সমবেদনা জানাচ্ছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযথ উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

গ্রামের বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিনও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা নজরুলের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে তাঁদের মামলার বিস্তারিত তথ্য ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা এখনো স্পষ্ট ধারণা পাননি বলে জানিয়েছেন।

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *