ইয়াছিন মাহমুদ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা শাখার আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘জাতীয় শিশু কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইসলামিক ফাউন্ডেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয় মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ফিল্ড সুপারভাইজার জনাব মুদ্দাছির মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব মাহমুদা জাহান উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিশেষ ব্যস্ততার কারণে তাঁর একজন প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জনাব মো.মহিউদ্দিন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন মুদ্দাছির মিয়া।
অনুষ্ঠানে অভিভাবক অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ইয়াছিন মাহমুদ। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শুধু সাহসই জোগায় না, বরং আনন্দ, অনুভূতি ও পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করে। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, “১৯৯৫ সালে আমি যখন প্রথমবারের মতো ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করতে যাই, তখন ভয়ে আমার বুক ও মুখ কাঁপছিল এবং গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছিল না। সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম
এই মঞ্চ থেকেই একদিন আমি প্রথম পুরস্কার অর্জন করব ইনশাআল্লাহ। ঠিক পাঁচ বছর পর এই স্থান থেকেই আমি শুধু উপজেলা নয়, বরং কোরআন তিলাওয়াতে জেলায় প্রথম এবং ইসলামী সংগীতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।
এ সময় তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী না হতে পারলেও হতাশ না হয়ে আগামী দিনে আরও দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে তাঁর মেয়ে সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেন গার্লস এন্ড হাই স্কুলের শিক্ষার্থী তাবাচ্ছুম আক্তার কথা হামদ ও নাতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাটি মোট ৩টি গ্রুপে এবং ৭টি ভিন্ন বিষয়ে (ক্বিরাত, আজান, উপস্থিত বক্তৃতা, হামদ ও নাত, ইসলামী জ্ঞান, রচনা এবং কবিতা আবৃত্তি) অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের রায়ে বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তাদের মাঝে সঠিক ইসলামী মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি চর্চা গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।