শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডা. মনিরুল ইসলাম চয়ন।

মোছাব্বির হাসান সজীব,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতী সন্তান ডা. মো. মনিরুল ইসলাম চয়নকে শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গঠিত পাঁচ সদস্যের তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীতে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সমাজসেবা অধিদপ্তরের স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, এর আগে গত ৮ অক্টোবর জারি করা আদেশের মাধ্যমে “স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৬১”-এর ৯ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একই ধারার উপধারা (২) অনুযায়ী সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সহযোগী অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত) ডা. মো. খায়রুল ইসলামকে তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীর আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরবর্তী আদেশে আহ্বায়কসহ পাঁচ সদস্যের তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলী গঠন করা হয়। এতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতী সন্তান ডা. মো. মনিরুল ইসলাম চয়ন। তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীর অন্য সদস্যরা হলেন ডা. আবু তাহের মো. নূরন্নবী শাহ, অধ্যাপক ডা. মো. আব্বাস উদ্দিন খান এবং ডা. মো. আরিফ আনোয়ার।

অফিস আদেশে তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীর কর্মপরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত কার্যনির্বাহী কমিটির কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ, প্রচলিত আইন ও বিধিমালা এবং সংস্থার অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীকে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে সমাজসেবা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ডা. মনিরুল ইসলাম চয়নের ওপর সংস্থাটির সুষ্ঠু পরিচালনা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে সংস্থাটির কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতী সন্তান হিসেবে ডা. মনিরুল ইসলাম চয়নের এ দায়িত্বপ্রাপ্তি তাঁর নিজ জেলা ও পরিচিতজনদের কাছেও তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এ দায়িত্বের মূল লক্ষ্য হবে ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সংস্থার স্বার্থ রক্ষা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া।

শিশুদের সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ ভবিষ্যৎ এবং কল্যাণে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যেন কোনো সাংগঠনিক জটিলতায় বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আইনানুগ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীর কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে সংস্থাটির সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে কার্যনির্বাহী কমিটির মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

উল্লেখ্য, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের অফিস আদেশে মহা-পরিচালকের অনুমোদনের কথা উল্লেখ রয়েছে এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *