ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অজ্ঞাত পথচারীর পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত মামুনুর রশীদ ফুরকান (৫৫) সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত হারুন উর রশীদের ছেলে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ২টার দিকে ফুরকান মিয়ার বোনের জামাই মো. শরিফ, ভাগিনা ফয়সাল সিকদার, বোন লুতফা আকতার মিনা এবং সিকিউরিটি ৩৬০ লিমিটেডের সুপারভাইজার মো. ইকরাম হোসেনসহ আত্মীয়স্বজনদের কাছে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের নির্দেশনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
ফুরকান গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ডিউটিরত অবস্থায় সরাইল থেকে তারেক জিয়ার নির্বাচনী সমাবেশে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় শনিবার সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে হাইওয়ে থানার মাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে স্বজনরা শনাক্ত করেন এবং সদর হাসপাতালের মর্গে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন।
নিহত ফুরকান ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে নাইট গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রায় চার মাস ধরে চাকরি করছিলেন এবং তাঁর মাসিক বেতন ছিল ১২ হাজার টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের বেড়তলা এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় ঢাকামুখী লেনে অজ্ঞাত একটি যানবাহনের ধাক্কায় তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু পরিচয় শনাক্ত হয়নি৷
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “নিহত ফুরকান সবার চোখে অজ্ঞাত থাকলেও আমাদের দায়িত্ব ছিল মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর আমরা আনন্দিত যে, বেওয়ারিশ বা অজ্ঞাত লাশ হিসেবে তাঁর দাফনের প্রয়োজন হলো না।
এ ধরনের মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা সমাজে দৃষ্টি ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়াতে চাই।”
পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় ফুরকানের মরদেহ রোববার (২৫ জানুয়ারি) বাদ যোহর সুলতানপুর মসজিদের মাঠে জানাজা নামাজের পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।