নিজস্ব প্রতিবেদক,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের যানজট নিরসনে মাঠে নামলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক।
একটি মাত্র প্রধান সড়ককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘এক রাস্তার শহর’ হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা যানজট। পৌর এলাকার মেড্ডা থেকে কাউতলী পর্যন্ত এই সড়কের দুই পাশে আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং হকারদের ফুটপাত দখলের ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শহরবাসী। এই সমস্যা নিরসনে এবার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে মাঠে নেমেছেন নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি শহরের প্রধান সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জেলা পরিষদের কর্মীদের দিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশের মাপজোখ করানো হয়। একই সাথে তিনি সড়কের পাশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শুনেন এবং সমাধানের বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করেন।
শহরবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথা জানিয়ে তরী বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, ‘যানজট এখন শহরবাসীর যন্ত্রণার অন্য নাম। বিভিন্ন ফোরামে আমরা এ নিয়ে কথা বললেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব ছিল। ফুটপাত দখল আর অপরিকল্পিত ভবনের কারণে সাধারণ মানুষের হাঁটার জায়গাটুকুও নেই।’
এ বিষয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শহরের প্রধান সড়কের যানজট একটি প্রকট সমস্যা। জেলা পরিষদের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সাথে ভাবছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের নির্দেশনায় আজ জেলা পরিষদ ও সড়ক এবং জনপথ বিভাগ যৌথভাবে সড়কটি পরিদর্শন ও মাপজোখ করেছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি শহরবাসীকে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে।’
তিনি আরও জানান, আগামী রবিবার জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে পুনরায় মাপজোখ কার্যক্রম চালানো হবে। ওই দিন রাস্তা প্রশস্তকরণের মাধ্যমে যানজট নিরসনে চুড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদ প্রশাসকের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন।