নিজস্ব প্রতিনিধি
সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে বন্ধ হয়ে যায় রাস্তাঘাট, বসতবাড়ির উঠানে দেখা দেয় স্থায়ী জলাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন ধরে এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১১নং সুলতানপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পঞ্চবটিতে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার। বিশেষ করে সুলতানপুর কাঁচাবাজার যাওয়ার সড়কটি পঞ্চবটিতে পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় পথচারী ও এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা এবং প্রভাবশালীদের কালভার্ট ও খাল ভরাটের কারণেই মূলত এই দীর্ঘমেয়াদি কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় বিএনপি নেতা আক্তার ও মাসুদ তাদের নিজস্ব জায়গা ভরাট করার সময় পানি নিষ্কাশনের প্রধান দুটি কালভার্ট মুখ বন্ধ করে দেন। এর ফলে পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে। পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মুসা আনসারি এলাকার একটি মূল খাল ভরাট করে তা সংকুচিত করে একটি ছোট ও চিকন ড্রেন নির্মাণ করেন। পর্যাপ্ত চওড়া না হওয়ায় সেই ড্রেন দিয়ে বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয় না। এই দুই কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়ে পড়ে।
অব্যাহত জলাবদ্ধতার কারণে একদিকে যেমন সুলতানপুর কাঁচাবাজার সড়কটির পিচ ও সুরকি উঠে গিয়ে রাস্তাটি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও পচা পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ফলে ডেঙ্গু মশাসহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগ ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার বহু পরিবার গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, যাদের অনেকের বাসাবাড়ির উঠানেও হাঁটু পানি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের রাস্তা তলিয়ে যায়। বাজারঘাট ও কাজকর্ম নিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নেতাদের ব্যক্তি স্বার্থে কালভার্ট ও খাল বন্ধ করার খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের শত শত পরিবারকে।”
এলাকাবাসী ও ৩ শত পরিবারের সদস্যরা অবর্ণনীয় এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে ড্রেন ও কালভার্টগুলোর প্রতিবন্ধকতা অপসারণসহ অবিলম্বে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ও সঠিক সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।