ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে সরকারি সওজ’র জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিনিধি 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি জোরপূর্বক দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি ও প্রাণনাশের হুমকির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি রিপন মেম্বার চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

প্রশাসনিক তদন্তেও সওজ’র জমিতে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

ভূমি অফিস ও স্থানীয়দের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২৯১ নং বড় সুলতানপুর মৌজার ১৮৯২ নং খতিয়ানে ৪৬৪০ দাগে ০.১৭ একর বৈধ ভূমির মালিক শীতল চৌধুরী। উক্ত ভূমির ঠিক পূর্ব পাশে ৪৬৩৫ দাগে ০.৬০ একর জমি সওজ বিভাগের নয়নজুলি সরকারি সম্পত্তি (১ নং খতিয়ানভূক্ত)।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো: আবুল কাশেমের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সওজ বিভাগের উক্ত সরকারি জমিতে অবৈধভাবে দোকানঘর তৈরি করে দখল করেছেন সুলতানপুর ইউপি মেম্বার ও বড় সুলতানপুর গ্রামের শ্রমিক লীগের সভাপতি মৃত কাইয়ুম মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া,ফিরোজ মিয়ার ছেলে আল আমিন, ওয়াহেদ আলীর ছেলে রইছ মিয়া এবং শেখ সহিদ মিয়ার ছেলে শেখ সুলতান। ভুক্তভোগীর ছেলে শিমুন চৌধুরী সদর মডেল থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, কোনো প্রকার ইজারা বা অনুমতি ছাড়াই অভিযুক্তরা সওজ’র সরকারি জায়গায় টিনশেডের দোকানঘর নির্মাণ করেছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরকারি এই অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধের অনুরোধ করা হলে তারা গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। সে আরো বলে আমরা সংখ্যালঘু হওয়ার দরুন আমাদের জায়গা সম্পদ জোর পুর্বক দখল করতে আসে এবং নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশ চলে যাওয়ার পর থেকে উক্ত দখলদার চক্রটি ভুক্তভোগী পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং পুনরায় অবৈধ নির্মাণকাজ সম্প্রসারণের চেষ্টা চালায়। এতে পুরো পরিবার নিরাপত্তা ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

অপরদিকে, শীতল চৌধুরী সওজ’র নিয়মাবলী মেনে উক্ত ফাঁকা জমিটি সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং জেলা প্রশাসক বরাবর যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিজের (ইজারা) জন্য আবেদন করেছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার সরকারি জমি উদ্ধার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক ও আইনি কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Please follow and like us:
0
fb-share-icon20
Tweet 20
Pin Share20

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *