নিজস্ব প্রতিনিধি
দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেলার ৬২৮টি মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০টি বেশি। পূজার সংখ্যা বাড়ায় প্রতিমাশিল্পীদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। দিন-রাত এক করে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। মাটির কাজ শেষে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা।
আগামীকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) শুভ মহালয়ায় শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে মর্ত্যে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা ধ্বনিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবী বোধন ও ষষ্ঠীকল্পারম্ভের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। এ সময় ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপগুলো।
জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে নাসিরনগর উপজেলায়। এ ছাড়া নবীনগরে ১৩২টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৮৫টি, বিজয়নগরে ৬৪টি, সরাইলে ৫৬টি, কসবায় ৫৬টি, বাঞ্ছারামপুরে ৪৬টি, আখাউড়ায় ২৯টি এবং আশুগঞ্জে ১৮টি মণ্ডপে পূজা হবে।
উৎসবকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন মণ্ডপ ও বাসাবাড়িতে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, সাজসজ্জা ও প্রতিমা তৈরির কাজ। হাতে সময় কম থাকায় শতাধিক প্রতিমাশিল্পী এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। শিল্পীরা জানান, ষষ্ঠীপূজার আগে প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা পৌঁছে দিতে হবে। তাই শেষ মুহূর্তে প্রতিমায় রং করার কাজ চলছে। তবে খড়, বাঁশ, রং ও মাটিসহ প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম কয়েক গুণ বাড়লেও সে অনুপাতে প্রতিমার দাম বাড়েনি। লাভ-লোকসান যা-ই হোক, বংশপরম্পরায় এ কাজ করে আনন্দ পান তাঁরা।
প্রতিমাশিল্পী ঝন্টু পাল বলেন, ‘এ বছর ১৮টি প্রতিমা তৈরি করছি। সবগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমি ও আমার ভাই মন্টু পালসহ পাঁচজন কারিগর দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। এখন প্রতিমাগুলোতে রং করা হচ্ছে। প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম অনেক বেড়েছে, কিন্তু সে অনুপাতে প্রতিমার দাম বাড়েনি। আমরা বংশপরম্পরায় এ কাজ করি। লাভ-লোকসানের চিন্তা করি না।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্যসচিব প্রবীর চৌধুরী রিপন বলেন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের আয়োজক কমিটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে মণ্ডপ পরিদর্শন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশের টহল দলও দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি শহরের বেহাল সড়কগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।