স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাবেক ছাত্রনেতা মরহুম আশরাফুল হক নোমানের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ ও শিশুর মাঝে গরুর মাংসের খিচুড়ি বিতরণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে শহরের মধ্যপাড়ার শান্তিবাগ এলাকার পোয়াপুকুরপাড়ে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে শেরপুর কবরস্থানে মরহুম নোমানের কবর জিয়ারত করা হয়। পাশাপাশি মাদরাসা ও বাসাবাড়িতে পবিত্র কোরআন খতম দেওয়া হয়। এ ছাড়া মরহুম আশরাফুল হক নোমানের স্মরণে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাদ জুমা জেলা সদর হাসপাতাল মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হবে।
নোমান স্মৃতি পরিষদ-শান্তিবাগের সাধারণ সম্পাদক ও পাওয়ার অব ইউনিটির আহ্বায়ক, ক্রীড়া সংগঠক শেখ আশিকুর রহমান পিয়াস এবং সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা জয়নাল আবেদিন বিপ্লবের যৌথ উদ্যোগে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোনাজাত পরিচালনা করেন শান্তিবাগ জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও মরহুম নোমানের শিক্ষক মাওলানা আবুল খায়ের।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোমান স্মৃতি পরিষদ-শান্তিবাগের উপদেষ্টা ও সাবেক ছাত্রনেতা সাংবাদিক হাবিবুর রহমান পারভেজ, সুমন আহমেদ, রাজিব আহমেদ, মুমিন ইসলাম, সংগঠনের সহসভাপতি ইয়াসিন চৌধুরী, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনের সহসভাপতি কামরুল ইসলাম সোহেল, ইসমাইল মিয়া, মো. রাশেদ, মো. কাউসার, মো. রাসেল, মো. জনি, মোহাম্মদ জুন্মান ও ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ হোসেন সোহাগ প্রমুখ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ফিরোজ মিয়া, হাজী তাজুল ইসলাম, হাজী মোহাম্মদ আলী, তাজুল ইসলাম, কাজল মিয়া, বাহাদুর মিয়া, খোকন রাজসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নোমান স্মৃতি পরিষদ-শান্তিবাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন মরহুম নোমানের স্মৃতিচারণা করে বলেন, আশরাফুল হক নোমান ছিলেন একজন মানবিক ও সাংগঠনিক নেতা। তাঁর স্নেহ ও আদর্শকে বুকে ধারণ করেই শান্তিবাগ থেকে অনেক তরুণ উদ্যোক্তার জন্ম হয়েছে। এ এলাকার অনেকেই জেলা ছাড়িয়ে সারা দেশে সামাজিক, মানবিক ও ক্রীড়াঙ্গনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেছেন এবং সফলভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, নিজের মেধা ও যোগ্যতার কারণে আশরাফুল হক নোমান আমাদের মাঝে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর প্রয়াণের ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি আমাদের স্মৃতিতে বেঁচে আছেন। তাঁর রেখে যাওয়া ভালো কাজগুলো অনুসরণ করে চললে তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো হবে। প্রয়াত নোমানের স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করায় তিনি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক ছাত্রনেতা মো. আশরাফুল হক নোমান ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের ইয়াম্বু শহরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। ছাত্রজীবন থেকেই মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সবার কাছে সুপরিচিত ছিলেন। গত ১২ বছর ধরে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নোমান স্মৃতি পরিষদ-শান্তিবাগের যুবক ও অনুসারীরা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহযোগিতা, বিভিন্ন উৎসবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নানা মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তাঁকে স্মরণ করে আসছেন।