স্টাফ রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দিদারুল আলম (১৫) নামে এক কিশোরকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাহিদ মিয়া ও তার বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের পিতা আল আমিন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার পর দিদারুলের মৃত্যু হয়। নিহত দিদারুল আলম কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের চৌবেপুর গ্রামের আল আমিনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে প্রতিবেশী ইউনুছ মিয়ার স্ত্রী রুনা আক্তার নারিকেল পাড়ার জন্য দিদারুলকে ডাকেন। এ সময় ইউনুছ মিয়ার ভাতিজা মাহিদ মিয়া নারিকেল পাড়তে বাধা দেন। এ নিয়ে রুনা আক্তারের সঙ্গে মাহিদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাহিদ দিদারুলের কাছে সেখানে আসার কারণ জানতে চান। জবাবে দিদারুল জানান, রুনা আক্তার তাঁকে ১০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে নারিকেল পাড়তে ডেকেছেন। এ সময় মাহিদ তাঁকে নারিকেল পাড়লে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে দিদারুল নারিকেল না পেড়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় মাহিদকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি আমাকে মেরে ফেলার কথা বলেছেন, কথাটা মনে রাখবেন।’
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলে পেছন থেকে দিদারুলের ওপর ধারালো দা দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। প্রথমে দিদারুলকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার স্পেশালাইজড মেডিকেল কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আল আমিন কসবা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, দিদারুল আলম হত্যার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।